স্টাফ রিপোর্টার: মাত্র কয়েকদিন আগেও মোটরসাইকেল মহড়া আর দেশীয় অস্ত্র হাতে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের উপর হামলা ও তুলে নেয়ার মতো অভিযোগ ছিলো জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান রিপনের বিরুদ্ধে। ৪ আগস্ট সুনামগঞ্জ বৈষম্য বিরোধী ছাত্রজনতার উপর বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ ছিলো ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের উপর।
৫ আগস্ট ছাত্রজনতার আন্দোলনের মুখে হাসিনা সরকার পতনের পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন ছাত্রলীগের বেশিরভাগ নেতাকর্মী। বন্ধ রয়েছে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দীপংকর কান্তি দে ও সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান রিপনের মোবাইল নাম্বার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে দেখা যাচ্ছেনা তাদের বিচরণ। দলের এমন অবস্থা ছাত্রলীগ নেতাকর্মী আত্মগোপনে থাকাকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন অনেকেই।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা জানান, কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরু থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর চড়াও ছিলেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে একাধিকবার হামলা করেছেন ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সংঘবদ্ধ সস্ত্রবাহিনী। পুলিশের পশ্রয়ে শহর জুড়ে স্টাম্প,পাইপ, রড, হকিস্টিক হাতে মহড়া দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভয় ভীতি প্রদর্শন করে আসছিলেন। সরকার পতনের পর থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের রোষানল থেকে বাঁচতে ছাত্রলীগের বেশিরভাগ নেতাকর্মী গা ঢাকা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অন্যতম সমন্বয়ক এমএ বারি সিদ্দিকী বলেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অস্ত্র নিয়ে হামলা করেছেন। তারা প্রতিনিয়ত আমাদে৷ হুমকি দিয়ে আসছিলেন। সরকারি কলেজে আমাদের অহিংস কর্মসূচিতে হামলা করেছেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান রিপন। তিনিসহ তার কয়েকজন কর্মী আমাদের মেয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে অসভ্য আচরণ করেছেন। সরকারি কলেজ থেকে একজন ছাত্রকে তুলে নিয়ে পুলিশ ধরিয়ে দেন।
কলেজের অন্যতম সমন্বয়ক উসমান বলেন, ৪ আগস্ট পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করেছিলাম আমরা। পুলিশকে ফুল দিয়ে বরন করি আমরা। কিন্তু ছাত্রলীগের সভাপতি দীপংকর কান্তি দের নেতৃত্ব আমাদের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। পুলিশ সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে গুলি ছুঁড়েন। এতে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ জনতার অনেকেই গুলিবিদ্ধ হয়।
সুনামগঞ্জ পৌর ডিগ্রি কলেজের অন্যতম সমন্বয়ক শাহরিয়ার শুভ বলেন, সরকার পতনের পর থেকে আমার সাধারণ শিক্ষার্থীরা ট্রাফিক ও পরিচ্ছন্নকর্মীর কাজ করছি। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এতোদিন আমাদের সাথে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করেছেন। এখন তাদের কাউকে মাঠে দেখা যাচ্ছে না। তারা যেনো গায়েব হয়ে গেছেন।
এদিকে দলের দুঃসময়ে ছাত্রলীগের গা ঢাকা দেয়াকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা।
সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্রনেতা রাসেল চৌধুরী বলেন, বিগত সময়ে অযোগ্য ব্যক্তিদের নেতৃত্ব দেয়া হয়েছিল। দলের প্রতি তাদের কোনো অবদান ছিল না। দলের সকল সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করলেও আজ দলের দুঃসময়ে তাদের কাউকে দেখা যাচ্ছে না। এতো হামলা, ভাংচুর হলো তারা কেউই অন্তত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রতিক্রিয়া জানানি। এ শহরের সম্প্রীতি নষ্ট করেছেন কথিত এই নেতারা। তারা আজ আত্মগোপনে। দলে ত্যাগীদের মূল্যায়ন দিলে আজ এমন অবস্থা দেখতে হতো না।
এ ব্যাপারে জানতে সুনামগঞ্জ ছাত্রলীগের সভাপতি দীপংকর কান্তি দে ও সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান রিপনের মুঠোফোনে একাধিক বার কল করা হলে বন্ধ পাওয়ার যায়।