1. mdjoy.jnu@gmail.com : admin : Shah Zoy
  2. stvsunamgonj@gmail.com : Admin. :
সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ০৭:১৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
নাসিরসহ ছয়জনকে আসামী করে ধর্ষন চেষ্টা মামলা করেছে চিত্র নায়িকা পরিমণী দক্ষিণ সুনামগঞ্জে পঞ্চায়েতী কবরস্থান দখলমুক্ত করলেন উপজেলা প্রশাসন দোয়ারাবাজার থানার ওসি নাজির আলম বদলী আব্দুর রশিদ হত্যার ঘটনায় চেয়ারম্যানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা যাদুকাটা নদীর ইজারাবন্দোবস্ত বৈধ ঘোষনা করায় লাখো শ্রমিকের মুখে আনন্দের হাসি রাতের আধারে চলছে পাড় কাটার মহোৎসব: থামছে না ধোপাজান চলতি নদীতে ড্রেজার মেশিনের তান্ডব! সুনামগঞ্জে চোর ভেবে পিঠিয়ে হত্যার পর বেওয়ারিশ হিসেবে দাফনের অভিযোগ দক্ষিন সুনামগঞ্জে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে যুবক খুন তাহিরপুরে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচীর বেকার যুবকদের দৈনিক যাতায়াত ভাতা প্রদানে অনিয়মের অভিযোগ ছাতকে চাচাত ভাইয়ের হামলায় গুরুতর আহত ব্যবসায়ী এনাম মারা গেছে, আটক ২

হাওরের জীববৈচিত্র রক্ষা ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে এলজিইডি’র হিমলিপ প্রকল্প

ছায়াদ হোসেন সবুজ:
  • আপডেট করা হয়েছে মঙ্গলবার, ১৮ মে, ২০২১
  • ৫৮ বার পড়া হয়েছে

প্রতিটি জীবই কোনো না-কোনোভাবে পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই জীবজগতের ভারসাম্য বজায় রাখা ও পরিবেশের সুরক্ষার স্বার্থে সকল জীবকেই বাঁচতে দিতে হবে। এরই ধারাবাহিকতায় এইচএফএমএলআইপি প্রকল্পের আওতায় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ১৩টি জলমহাল ব্যবস্থাপনাধীন আছে। মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক ইস্যুকৃত কার্ডধারী প্রকৃত মৎস্যজীবিদের নিয়ে বিল ব্যবহারকারী সংগঠনের মাধ্যমে এই জলমহালগুলির ব্যবস্থাপনা হচ্ছে। সবকটি জলমহালই পূনঃখনন করা হয়েছে।

খননের পর ০৯টি বিলে জলজবৃক্ষ রোপন করা হয়েছে। এক সময় মানুষের ধারনা ছিল শুধু গ্রামীন অবকাঠামো তৈরি, রক্ষাণাবেক্ষন ও সংস্কার কাজই ছিলো এলজিইডি’র প্রধান কাজ। সময়ের পরিক্রমায় মানুষেরা জানতে পারছেন এর বাহিরে গিয়েও এলজিইডি তার নির্দিষ্ট হাওরের জীব-বৈচিত্র রক্ষা ও দরিদ্র জেলেদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য এইচএফএমএলআইপি  প্রকল্পটির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এলজিইডি কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন “হাওর অঞ্চলের বন্যা ব্যবস্থাপনা ও জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প (এইচএফএমএলআইপি)” এর মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন অঙ্গের আওতায় জলাভূমি পূনঃখনন, অভয়াশ্রম স্থাপনসহ বিলপাড়ে জলজবৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে হাওরাঞ্চলের জীব-বৈচিত্রের উন্নয়নসহ মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দরিদ্র জেলেদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটছে। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও মৎস্য সম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে হাওরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ও উদ্যোশে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা জাইকা ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) “হাওর অঞ্চলের বন্যা ব্যবস্থাপনা ও জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প (হিমলিপ)” নামের প্রকল্পটি জুলাই/২০১৪ইং থেকে জুন/২০২২ইং মেয়াদে হাওরাঞ্চলের ০৫ জেলা সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা ও বি.বাড়িয়ায় বাস্তবায়নাধীন আছে।

ভূমি মন্ত্রনালয় ও এলজিআরডি মন্ত্রনালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে ১৩৯টি জলমহাল উন্নয়নের জন্য প্রকল্পভূক্ত করা হয়। উপজেলার প্রকল্পভূক্ত কয়েকটি জলমহাল ঘুরে উন্নয়নের ব্যাপক ছোঁয়া লক্ষ্য করা গেছে। প্রকল্পভূক্ত প্রতিটি জলমহালেই পূনঃখনন কাজ বাস্তবায়ন করে জলজবৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। এছাড়া, প্রায় প্রতিটি জলমহালেই একটি করে অভয়াশ্রম স্থাপন করা হয়েছে। সরেজমিনে পরিদর্শনকালে উক্ত প্রকল্পের সুফলভোগী শিমুলবাঁক ইউনিয়নের সুরাইয়া বিল ব্যবহারকারী সংগঠনের সভাপতি সাজিরুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, প্রকল্পভূক্ত হওয়ার শুরুর বছর এ বিলটি’র মৎস্য উৎপাদন ছিল ৮ শত ৪৫ কেজি। ২০১৮ সালে বিলটি পূনঃখনন হওয়ার এ বিলটি’র মৎস্য উৎপাদন দাড়ায় ৩ হাজার ১৫০ কেজিতে।

তিনি আরও বলেন, খননের পর অভয়াশ্রম স্থাপনের ফলে গত বিশ বছর পর এখন এ বিলে রুই, কাতলা, আইর, কালিবাউশ, রানী, পাবদা, মধুপাবদা, ফলি মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রকল্পভূক্ত হওয়ার ফলে আমাদের জীবনমান উন্নয়ন হচ্ছে। প্রকল্পের আরেক সুফলভোগী কালডোরা নাকডোরা বিল ব্যবহারকারী সংগঠনের সভাপতি হরমোহন বিশ্বাস বলেন, বাড়ীর পাশে বিলটির অবস্থান হলেও বড় বড় মহাজনের দৌরাত্বে বিগত দিনে আমরা এ বিলে প্রবেশ করতে পারতাম না। প্রকল্পভূক্ত হওয়ার ফলে এ বিলে আমাদের প্রবেশাধীকার নিশ্চিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রকল্পভূক্ত হওয়ার শুরুর বছর এ বিলটি’র মৎস্য উৎপাদন ছিল ৬ হাজার ৪৫ কেজি। ২০১৮ ইং সালে বিলটি পূনঃখনন হওয়ার পর এ বিলটি’র মৎস্য উৎপাদন দাড়ায় ১০ হাজার ১শত কেজিতে।

তিনি আরও বলেন, বিল পূনঃখননসহ বিল সংযোগ খাল পূনঃখননের পর অভয়াশ্রম স্থাপনের ফলে, এ বিল থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া দেশী মাছ যেমন রুই, আইর, কালিবাউশ, গোলসা, পাবদা, মধুপাবদা, ফলি, রানী, আলুনি মাছসহ আরও অনেক দেশীও মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মোঃ আল-নূর তারেক বলেন, এইচএফএমএলআইপি প্রকল্পের আওতায় অত্র উপজেলায় ১৩টি জলমহাল ব্যবস্থাপনাধীন আছে। মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক ইস্যুকৃত কার্ডধারী প্রকৃত মৎস্যজীবিদের নিয়ে বিল ব্যবহারকারী সংগঠনের মাধ্যমে জলমহালগুলির ব্যবস্থাপনা হচ্ছে। সবকটি জলমহালই পূনঃখনন করা হয়েছে। খননের পর ০৯টি বিলে জলজবৃক্ষ রোপন করা হয়েছে এবং অভয়াশ্রম স্থাপন করা হয়েছে। বাকীগুলোতে জলজবৃক্ষ রোপন ও অভয়াশ্রম স্থাপন করার কাজ চলমান আছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন