1. mdjoy.jnu@gmail.com : admin : Shah Zoy
  2. stvsunamgonj@gmail.com : Admin. :
শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৩৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
ধর্মপাশায় ছয় বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ সুরমা নদীতে সেতু নির্মানসহ বিভিন্ন দাবীতে মানববন্ধন ও লিফলেট বিতরণ চাকুরী করেন বাংলাদেশে ৫ বছর ধরে বসবাস করেন আমেরিকায় প্রধান শিক্ষিকা জেসমিন সুলতানা উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে মিলেমিশে থাকতে হবে : পরিকল্পনামন্ত্রী  শান্তিগঞ্জে পোনামাছ অবমুক্ত করলেন পরিকল্পনামন্ত্রী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় পরিকল্পনামন্ত্রী, জনগণই আমাদের সব  রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দদের সাথে অপরাজিতার মতবিনিময় তাহিরপুরে শহীদ সিরাজ লেকে পানিতে ডুবে পর্যটক নিহত  সুনামগঞ্জ সাংবাদিক ফোরামের গঠতনন্ত্র অনুমোদিত তাহিরপুরে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দৃষ্টিনন্দন পর্যটন কেন্দ্র নির্মান করা হবে- সচিব মোকাম্মেল

সুরমার ভাঙ্গনে বিলিন হচ্ছে ফসলী জমি ও স্থাপনা

Reporter Name
  • আপডেট করা হয়েছে সোমবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ১৭৯ বার পড়া হয়েছে

 

স্টাফ রিপোর্টার:

সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সুরমা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গনে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনাসহ ঘরবাড়ি, ফসলী জমি, রাস্তাঘাট, মসজিদ, হাট-বাজার, গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে প্রতিনিয়িতই। নদী ভাঙনের কবলে পড়ে বসতভিটা হারিয়েছেন অনেকে অনেক পরিবার। কোনো কোনো এলাকার মানচিত্র পাল্টে যাচ্ছে। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে তীরবর্তী বাসিন্ধাদের কপাল পুড়ছে। তবে দু’একটি জায়গা ছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এ ব্যাপারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে জানান স্থানীয়রা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জেলা বিভিন্ন উপজেলায় ভাঙ্গন কবলিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে প্রকল্প প্রেরণ করা হয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে বরাদ্দ এলে কাজ শুরু হবে। তবে সেই বরাদ্দ কবে আসতে পারে তা জানা যায়নি। সুরমা তীরবর্তী পূর্ব ইব্রাহিমপুর পার্শ্ববর্তী গ্রাম জগন্নাথপুর, মইনপুর, ধারারগাঁও এলাকার হালুয়ার ঘাটের কিছু অংশে, ব্রাহ্মণগাঁও, নতুন ব্রাহ্মণগাঁও, আমবাড়ি বাজার, আদার বাজার, হরিনাপাটী এলাকায় ভাঙ্গন অব্যহত রয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে জানান স্থানীয়রা। মোহনপুর ইউনিয়নের পৈন্দা এলাকায় নদী ভাঙন চলছে দীর্ঘদিন ধরে। ভাঙ্গা ঘরের মেঝেতে বসে গল্প করছিলেন দোয়ারা বাজারের পূর্ব মাছিমপুর গ্রামের বয়োবৃদ্ধ তিন মহিলা স্নেহলতা দাস, কমলা রানী দাস আর সুনীতি রানী দাস। এক এক করে শুনাচ্ছিলেন নিজের দুর্দশার কথা। সুরমা নদী ভাঙ্গন বাড়তে বাড়তে এখন তাদের বসত ঘরের ভেতরে এসে হানা দিয়েছে। ঘরের অর্ধেক অংশ ভেঙ্গে ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েগেছে। এখন বাকিটুকুও বিলীন হওয়ার অপেক্ষায়। বিল্ডিং ঘরের পাকা মেঝেতে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। অনেক কষ্টে উপার্জিত টাকায় বানানো নিজের এই ঘরে এখন আর কেউই থাকছেন না ভয়ে। বসতঘর, ভিটেমাটি হারানোর প্রস্তুতি নিয়ে নিয়েছেন তারা। ঘরের চালার টিনসেড, মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন। মাছিমপুর, পশ্চিম মাছিমপুর, নৈনগাঁও, মাঝের গাঁও, মুরাদপুর এবং মংলার গাওয়ের প্রায় শতাধিক পরিবার সুরমা নদীতে নিজেদের বসতঘর, ভিটেমাটি, ফসলিজমি ও গাছগাছালি হারিয়ে এখন বেছে নিয়েছে উদ্বাস্তুর জীবন। সুরমা নদীর করালগ্রাসে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে এসব পরিবারের সাজানো স্বপ্নের ঘর-সংসার। ভিটেমাটি হারিয়ে ভূমি না পেয়ে অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন পরিত্যক্ত বৃটিশ সড়কে। সন্তান সন্ততি নিয়ে সুন্দরভাবে বেচেঁ থাকতে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক, সরকারের কাছে এমনটাই দাবি নদী ভাঙ্গনে উদ্বাস্তু ভূমিহীন এসব অসহায় পরিবারের। ধর্মপাশা উপজেলার বাবুপুর বাজারের একাংশ নদীতে চলে গেছে। এই ভাঙনের কবলে পড়ে প্রায় ২০টি দোকার ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নুরপুর গ্রামের অনেক বাড়িঘর ও গাছপালা বিলীন হয়ে গেছে। গোলকপুর বাজারে ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে, শারিফপুর এলাকার এবং ইসলামপুর এলাকার অসংখ্য ঘরবাড়ি বিলিন হয়েছে। ভয়াবহ এই নদী ভাঙন প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানান স্থানীয়রা। জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনাবাজারের আশপাশ এলাকা, জামলাবাজ, তেলিয়া গ্রাম, নুরপুর, রামনগর, কামলাবাজ, নয়াহালট, রামপুরসহ বেশ কয়েকেটি গ্রামের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। এসব ভাঙনের কবলে পড়ে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এই এলাকার নদী ভাঙন প্রতিরোধে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলে জানান স্থানয়িরা। তবে ইতো মধ্যে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী বিশ্বজিত দেব বেশ কয়েকটি গ্রামের ভাঙ্গন কবলিতদের তালিকা প্রণয়ন করেছেন যা সরকারী নিয়ম অনুযায়ী ঘরভাঙ্গা পরিবারে প্রকল্প করে ঘর তৈরী প্রস্তাবনায় রয়েছে। দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া সুলতানা জানান, দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের নদী ভাঙ্গন কবলিত এই কয়েকটি গ্রামের অবস্থা খুবই করুণ। যাদের ঘর নেই কিন্তু খাসজমিতে বসবাস করে আসছে তাদেরকে খাসজমি বন্দোবস্তসহ ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে। কিন্তু সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী উপজেলা সদরের এক কিলোমিটারের মধ্যে খাসজমি বন্দোবস্ত করার নিয়ম না থাকায় সদর ইউনিয়নের ক্ষতগ্রস্ত কয়েকটি গ্রামের মানুষজনকে ঘর দেওয়া যাচ্ছে না। সদরের বাইরে ঘর নির্মাণ উপযোগী খাসজমি পাওয়া গেলে সেখানে তাদেরকে খাসজমি বন্দোবস্তসহ ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে। জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিত দেব বলেন, জামালগঞ্জ অংশের নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শনকরে তাদের তালিকা তৈরী করছি। বরাদ্ধ পেরেই সরকারী নিয়ম অনুয়ায়ী তাদের পর্নবাসরে ব্যবস্থা করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন