1. mdjoy.jnu@gmail.com : admin : Shah Zoy
  2. satvsunamgonj@gmail.com : Admin. :
সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ১১:২৪ অপরাহ্ন
  •                          

হাওরাঞ্চলের কথা ইপেপার

ব্রেকিং নিউজ
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে জেলা পুলিশের পান্তা উৎসব পালিত সুনামগঞ্জে একুশে টেলিভিশনের ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চুরি হয়ে যাওয়া পাসপোর্ট ও মোবাইল উদ্ধার করে দিলেন এপিবিএন টিম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে মিথ্যা অপপ্রচার দোয়ারাবাজারে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মানহানির অভিযোগে মামলা দায়ের গোলাপগঞ্জের বিশিষ্ট সমাজসেবক ফরিজ আলীকে জড়িয়ে প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদের নিন্দা ও প্রতিবাদ সুনামগঞ্জে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোরআন শরিফ বিতরণ বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি নির্বাচনে সিলেটের বিজয়ী হয়েছেন দুইজন  দিরাইয়ে দোকান থেকে ৬০ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার সিলেট মহানগরীর আলমপুর থেকে ১০ জুয়াড়ীকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে এসএমপি ডিবি পুলিশ সাংবাদিক পারভেজের মায়ের সু—চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে —এমপি নাদেল

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ভিসির ১০স্বজনের চাকুরী!

Reporter Name
  • আপডেট করা হয়েছে বুধবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৪
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

হাওরাঞ্চল ডেস্ক:

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ভিসি’র ১০ স্বজন, পিএসের ৩জনসহ ১১ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও মুক্তিকোঠা মানা হয়নি। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে বইছে নানান আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মো: জামাল উদ্দিন ভুইয়ার শ্যালকপুত্র, উকিলবাবা সিকিউরিটি সুপারভাইজার খোরশেদ আলম ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি সেক্রেটারীর লোকজনই নিয়োগ পেয়েছেন। যেখানে মুক্তিযোদ্ধা কোটাও রাখা হয়নি। ভিসি’র আপন ভাতিজাসহ ১০ আত্মীয়কে চাকরি দিয়েছেন তিনি। আর পিএস সালাহ উদ্দিনের তিন আত্মীয় নিয়োগ পেয়েছেন।

ভিসির এই সিন্ডিকেটে রয়েছেন সিকৃবি ছাত্রলীগ সভাপতি আশিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এমাদুল হোসেন, কর্মচারী পরিষদের সাবেক সভাপতি শাহ আলম সুরুক, সাধারণ সম্পাদক অরুণ লামা, যুগ্ম সম্পাদক মুস্তাফিজ রহমান নিরু, শাহপরান (রহ.) হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. আব্দুল্লাহ—আল—মামুন, ডেপুটি রেজিস্ট্রার সুজন চন্দ্র সরকার ও অশোক বিশ্বাস। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের সময় তাঁরা প্রত্যেকেই স্বজনদের চাকরির ব্যবস্থা করেছেন।

ভিসির বিরুদ্ধে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। ২০১০ সালে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে থাকাকালে প্রথম স্ত্রীর ভাই আমিন মো. জেবিন শাহপরান (রহ.) হলের সহকারী রেজিস্ট্রার পদে এবং ভাগনে মো. আব্দুর রকিব রাব্বুর তথ্য গোপন করে সেকশন অফিসার পদে চাকরি দেন তিনি। এবারের নিয়োগেও এমনটা ঘটেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, বিপুল সংখ্যক কর্মচারী নিয়োগে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেন সাবেক ভিসি মতিয়ার রহমান হাওলাদার কিন্তু ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। এরই মধ্যে ভিসি হিসেবে যোগ দেন জামাল উদ্দিন। এরপর আগের বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে ২০২৩ সালের এপ্রিলে একাধিক বিজ্ঞপ্তি দেন। এর মাধ্যমে কর্মকর্তা—কর্মচারী পদে মোট ৬৭ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগে ভিসির আপন ভাতিজা আরাফাত ভূঞা, আত্মীয় রমজান ভুইয়া, মো. শাহ আলম, মো. আব্দুল কাজল মুন্সি, মানিকুর রহমান, মো. এনায়েতুল্লাহ, হাসিন রায়হান ফাহিম নিয়োগ পান। এ ছাড়া অতিথি ভবনের কেয়ারটেকার পদে নিয়োগ পান বর্তমান স্ত্রীর ভাইয়ের ছেলে তাজুল ইসলাম।

আত্মীয় নিয়োগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ভিসি জামাল উদ্দীন বলেন, ‘কোন মানুষের বাড়ি কোথায়, কার কী লাগে, এটা চাইলেই যাচাই করা যায়। এটা দেখলেই বুঝবেন যে এটা সঠিক নয়। হ্যাঁ, আমার ভাতিজা আছে একজন। সে আমার নিকটাত্মীয়। আপন ভাতিজা। সে কম্পিউটার অপারেটর পদে আছে।’ উকিল বাবা, পালকপুত্রের আত্মীয়রা

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সময় শিক্ষার্থী ছিলেন ভিসির পিএস সালাহ উদ্দিন। নিজেকে ভিসির ঘনিষ্ঠজন হিসেবে দাবি করেন তিনি। সালাহ উদ্দিনকে নিজের পালকপুত্রও বলে থাকেন ভিসি। কথিত এই পালকপুত্রের তিন আত্মীয় অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে চাকরি পেয়েছেন। তাঁরা হলেন ফুফাতো ভাইয়ের দুই ছেলে মো. আবুল হাসেম ও মো. আবুল খায়ের এবং শ্বশুরবাড়ির আত্মীয় সামছুজ্জামান। জানতে চাইলে সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘মেধা ও যোগ্যতায় আমার ফুফাতো ভাইয়ের দুই ছেলে চাকরি পেয়েছে। সামছুজ্জামান শ্বশুরবাড়ি এলাকার আত্মীয়।’

ভিসির দ্বিতীয় বিয়েতে উকিল বাবা ছিলেন সিকিউরিটি সুপারভাইজার মো. খোরশেদ আলম। তিনিও ভিসির ঘনিষ্ঠ। এবারের নিয়োগে তাঁর সুপারিশে আব্দুর রহিম নামের একজন সহকারী বাবুর্চি পদে নিয়োগ পেয়েছেন। তবে খোরশেদ আলমের দাবি, ‘আমার আপন বোন আবেদন করে লিখিত পরীক্ষায় টেকে নাই। এত ক্ষমতা থাকলে বোনের চাকরি হলো না কেন? আব্দুর রহিম নামের কাউকে চিনি না।’

সিন্ডিকেটে আছেন তাঁরাও: এ ছাড়া কর্মচারী পরিষদের সাবেক সভাপতি শাহ আলম সুরুকের মেয়ে মোছা. তাহেরা আক্তার মিলিকে অফিস সহায়ক পদে, সার্টিফিকেট জালিয়াতি (বয়স টেম্পারিং) করে পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অরুণ লামার বোন অর্পনা কুমারী বুক সর্টার পদে, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মুস্তাফিজ রহমান নিরুর স্ত্রী মোছা. শাহনাজকে সহকারী বাবুর্চি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নীরুর মাধ্যমে আরও দুজন নিয়োগ পেয়েছেন। এই সার্টিফিকেট জালিয়াতি ও বয়স টেম্পারিংয়ের ব্যাপারে ভিসি জামাল উদ্দীন বলেন, ‘যখন সিন্ডিকেট অ্যাপ্রুভ হলো, তারপরে আমার কাছে এই তথ্যটা বলা হইছে যে ও বয়স লুকাইছে। এখন ওই পরিস্থিতিতেও যখন সিন্ডিকেট অ্যাপ্রুভ দিছে, আমার স্থগিত রাখার সুযোগ নাই।’

এ ছাড়া শাহপরান (রহ.) হলের প্রভোস্ট আব্দুল্লাহ—আল—মামুনের আত্মীয় জামাল হোসেন ইলেকট্রিশিয়ান পদে; বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্থাপন শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার সুজন চন্দ্র সরকারের শ্যালক জয় দাস, ডেপুটি রেজিস্ট্রার অশোক বিশ্বাসের শ্যালিকা স্মিতা দে মমিকে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে চাকরি দেওয়া হয়েছে।

ভাগ আছে ছাত্রলীগেরও: অফিস সহায়ক পদে সিকৃবি ছাত্রলীগ সভাপতি আশিকুর রহমানের ভগ্নিপতি মো. ফয়েজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মো. এমাদুল ইসলামের মাধ্যমে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে বিশ্বজিৎ দেব এবং সহকারী বাবুর্চি পদে মো. মোবারক আলী নিয়োগ পেয়েছেন। যদিও এই দুই নেতাই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আশিকুর রহমান বলেন, ‘আমার আত্মীয়স্বজনের যোগ্যতা থাকলে কি চাকরি পাবে না? কোনো অনিয়ম হয়নি, স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ হয়েছে।’

আর এমাদুল হোসেন বলেন, ‘নিয়োগ তো প্রশাসনের ব্যাপার। এই দুজনকে আমি চিনিও না।’এসব নিয়োগের বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, নিজের লোকদের নিয়োগ দিতেই নতুন করে বিজ্ঞপ্তি দেন ভিসি। তাঁর যোগদানের পরপরই নিয়োগ প্রক্রিয়া সামনে রেখে একটি নিয়োগ—বাণিজ্যের সিন্ডিকেট তৈরি হয়। নিয়োগ পরীক্ষা শেষে উপাচার্যে্যর বাংলোতে বসে রাতভর খাতা দেখেন তাঁরা। তাঁরাই মেরিট লিস্ট তৈরি করেন। সে অনুযায়ী ভোর ৫টায় খুদে বার্তা দিয়ে প্রার্থীদের জানানো হয় সকাল ১০টায় ব্যবহারিক পরীক্ষা। মূলত পছন্দের প্রার্থীরা ছাড়া যাতে অন্যরা এই পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারেন, এ জন্য অসময়ে খুদে বার্তা দিয়ে প্রার্থীদের ডাকা হয়েছিল। আসলে কাকে কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে, সেই তালিকা আগেই চূড়ান্ত ছিল।

এই নিয়োগের অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘এ রকম হওয়ার কথা নয়। এমনটা হওয়া দুঃখজনক। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ সুত্র: আজকের পত্রিকা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন