1. mdjoy.jnu@gmail.com : admin : Shah Zoy
  2. stvsunamgonj@gmail.com : Admin. :
বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ০২:৪০ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
তাহিরপুরে পাঁচ পূজা মন্ডপে আর্থিক অনুদান দিলেন চেয়ারম্যান আজাদ ধর্মপাশায় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল ধর্মপাশায় সড়ক দূর্ঘটনায় অটো চালকের মৃত্যু সুনামগঞ্জে র‌্যাব-৯ এর কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন- র‌্যাবের মহাপরিচালক জেলা আ’লীগ সভাপতি ও সম্পাদকের বক্তব্য একটি নির্লজ্জ মিথ্যাচার, যা অগঠনতান্ত্রিক-মুকুট কাঠইর-জামালগঞ্জের রাস্তা সংস্কারের দাবীতে মানববন্ধন মধ্যনগরে সামাজিক সম্প্রীতি সমাবেশ ও উদ্ভুদ্ধ করন সভা তাহিরপুরে দুর্গোৎসব উদযাপনে মতবিনিময় সভা সুনামগঞ্জে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ শিক্ষার্থীদের টেকসই উন্নয়নে বিনামুল্যে বাইসাইকেল বিতরণ করেছে বিএমইটি তাহিরপুরে খাদ্য বান্ধব কর্মসুচির ১৫ টাকা কেজি ধরে চাল বিক্রির কার্যক্রম শুরু

ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে শ্রমিকলীগ সভাপতি সেলিম

স্টাফ রিপোটার
  • আপডেট করা হয়েছে রবিবার, ২১ আগস্ট, ২০২২
  • ৯৩ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জ তৃণমুল আওয়ামীলীগের নিবেদিত প্রাণ, অসহায় দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের প্রিয় নেতা জাতীয় শ্রমিকলীগ সভাপতি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য, সুনামগঞ্জ-১ আসনের আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী, বিশিষ্ট সমাজসেবক, জনদরদী, তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য সাধারন সম্পাদক পদপ্রার্থী সেলিম আহমদকে স্থানীয় রাজনীতি থেকে বিদায় করার হীন উদ্দেশ্যে সম্পূর্ন অন্যায়ভাবে মুজিব আর্দশের সৈনিক সেলিমকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমুলক মামলায় সন্দিগ্ধ আসামী হিসেবে নিজ বাসা থেকে আটক করা হয়েছে। সম্প্রতি মহা প্লাবনে সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, মধ্যনগর ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে নিজ তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ ত্রাণ বিতরণ করে সাধারন মানুষের প্রিয় নেতা হয়ে উঠেন সেলিম আহমদ। তার বিপুল জনপ্রিয়তার ভয়ে স্থানীয় বির্তকিত এমপি তাকে ষড়যন্ত্রের জালে জড়িয়ে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন। এ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামীলীগারদের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা প্রকাশ্যে স্থানীয় এমপি’র ইন্দনের কারণেই সেলিমকে ফাঁসানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেলিমের মুক্তির দাবীতে সরব উপস্থিতি লক্ষ্যনীয়। স্থানীয়রা জানান, গত ১৫ আগষ্ট জাতির জনকের জাতীয় শোক দিবসে তাহিরপুরে বিপুল পরিমাণ জনসমাগমের কারণেই এমপি’র রোশানলের শিকার হয়ে ১৬ আগষ্ট তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজী ও অপহরণ মামলায় গ্রেফতারকৃত কোন আসামী ১৬১ ধারায় জবান বন্দিও প্রদান করেনি যে, সেলিম এই ঘটনায় জড়িত আছে এমনটি মামলার বাদীও সেলিমের নাম উল্লেখ করেনি। এতে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে। একজন যুবদল নেতার মামলায় জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি জেল হাজতে তা মেনে নিতে পারছে না আ. লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তারা বলছেন, সেলিম আহমেদ আপাদমস্তক একজন রাজনীতিবিদ ও মানবিক ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন বঙ্গবন্ধুর আর্দশের সৈনিক। সে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। এ ছাড়াও স্থানীয় এমপিকে বাদ দিয়ে যাদুকাটা বালি মহাল ইজারা নেয়ায় আরও বেশী আক্রোশ্বান্বিত হইয়া উঠে।
বিভিন্ন সুত্র জানায়, সম্প্রতি ১৫ আগস্ট তাহিরপুর উপজেলায় দুটি গ্রুপে শোকসভার আয়োজন করা হয়। একটি স্থানীয় এমপি’র অপরটি জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি সেলিমের গ্রুপ। সেলিমের গ্রুপে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে শোক সভা অনুষ্ঠিত হলেও এমপি’র গ্রুপে হাতে গণা কয়েকজন জামায়াত বিএনপি’র লোক ছাড়া কাউকে দেখা যায়নি। শোক সভায় সেলিম প্রকাশ্যে নানান অনিয়ম দুর্নীতির কথা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন এবং তাহিরপুর উপজেলার চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আবুল হোসেন খান ও সাধারন সম্পাদক অমল কর এর বিরুদ্ধে ক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।তাদের দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে কমিটির ৪৭ সদস্য কর্তৃক সাংগঠনিকভাবে বহিস্কার করে আবুল হোসেন খা ও অমল কর কে। তাদের সঙ্গে সভায় নেতৃত্ব দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন। আর অন্য পক্ষে সেলিম ছিলেন তাহিরপুর আওয়ামী লীগের অধিকাংশ সদস্যদের পক্ষে। যারা দলকে সংগঠিত করতে আবুল ও অমলকে বহিস্কার করেছিলেন। এমপির চেয়ে জনপ্রিয়তা বেশি হয়ে যাওয়ায় সেলিমকে পরদিনই পুলিশ বাহিনী দিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়াও শ্রমিকলীগ সভাপতি সেলিমের যাদুকাটা বালি মহালে ব্যবসায়ীক অংশিদারিত্ব না দেয়ায় নানানভাবে হয়রানী করে আসছিল স্থানীয় এমপি।
সরকারকে ৩০ কোটিরও বেশি টাকা রাজস্ব দিয়ে বৈধভাবেই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল সেলিম। তাকে বিপদে ফেলতে দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা চালিয়ে আসছে এই জনবিচ্ছিন্ন দুর্নীতিবাজ নেতারা। আওয়ামী লীগের জেলার শীর্ষ পদে থাকা এক নেতাও তার সঙ্গে কাজ না করায় ক্ষুব্ধ ছিলেন সেলিমের উপর। সব মিলিয়ে চক্রান্ত বা বিরোধ চলে আসছিলো লোক চক্ষুর আড়ালেই। পাশাপাশি বখত পরিবারের জামাতা হিসেবেও এই পরিবারকে হেও প্রতিপন্ন করার অংশ হিসেবে তার দিকে নজর ছিলো রাজনৈতিক কুটকৌশলকারীদের। বিপরিতে ন¤্র স্বভাবের ক্লীন ইমেজের রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত সেলিম বুঝতে পারেননি তার জন্য অপেক্ষা করছে এমন অপ্রত্যাশিত জেলখানা।
১৫ আগস্ট শোকসভা সফল হলেও ১৬ আগস্টের সকাল ৮টা সেলিমের জন্য ছিলো হেনস্থার। সকাল ৮টার আগে থেকেই সেলিমের হাসননগরস্থ ময়নার পয়েন্ট এলাকার বাসার সামনে অবস্থান নেয় গোয়েন্দারা। অনেকটা ফিল্মি কায়দায় যেনো অপরাধী ধরতে অভিযান পলিচালনা করে পুলিশ সদস্যরা। মামলায় তার নাম উল্লেখ না থাকলেও তাকে থানায় যেতে আহবান করে পুলিশ। তিনি বাসা থেকে নিজের গাড়িতে করেই থানায় রওনা করেন। পরিবারের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের বিভিন্ন কর্মকান্ডে সহযোগিতা করতেন সেলিম, সে ধারণা থেকেই হয়তো নতুন কোন কারনে সহযোগিতার প্রয়োজন ভেবে সেলিম থানায় গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখোনে তাকে আটক দেখায় পুলিশের ডিবি সদস্যরা। কারো মামলায় উল্লেখিত অপরাধী না হলেও তাকে আটকের খবর জানাজানি হলে পুরো শহরে নিন্দার ঝড় বইতে থাকে। এরপর তাকে যুবদল নেতার করা পুরনো এক ১০ লাখ টাকা চাঁদাবাজীর মামলায় সন্দেহভাজন আসামি দেখিয়ে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। সঙ্গে সঙ্গেই তাকে কোর্টে চালানও করে দেওয়া হয়। ওই দিনই ১০ দিনের রিমান্ডও আবেদন করে পুলিশ। এসময় আদালতের এজলাশে আইনজীবীদের সবাই সেলিমের পক্ষে ন্যয় বিচার চাইলে আদালত পরদিন এই শুনানির দিন নির্ধারণ করেন। যদিও পরদিন শুনানির সময় বাদি পক্ষে কোন আইনজীবি দাড়াননি, সকল আইনজীবিরা একযোগে সেলিমের পক্ষে ন্যয় বিচার চান। পুলিশ এসময় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোন প্রমাণ না দেখাতে পারায় “ সোর্সের বরাতে তাকে আনা হয়েছে” বলে উল্লেখ করা হয় । এ সময় আদালত পুলিশের চাওয়া রিমান্ড আবেদন গ্রহণ করেননি, তবে সেলিমকে জেল গেইটে ২দিন জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতে পারে বলেও আদালত নির্দেশ দেন।
সেলিমকে রাজনৈতিকভাবে বিপদে ফেলার জন্য অপকৌশলের মাধ্যমে হেনস্থা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তাহিরপুর আওয়ামী ও অঙ্গসংগনের রাজনৈতিক নেতাকর্মী থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারাও। দলমত নির্বিশেষে সেলিমের মুক্তির দাবী জানিয়েছেন। সেলিম আটক হওয়ার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার মুক্তির দাবীতে ঝড় উঠেছে।
তাহিরপুরের ছাত্রলীগ নেতা সুমন জানান, আওয়ামী লীগের মাঝে অনেকদিন ধরেই নানা কোন্দল বিরাজ করছিল। বঞ্চিত নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে দুভাবে বিভক্ত হয়ে ছিল। সেটাকে নিরসন করতে সেলিম ভাই আন্তরিকভাবে কাজ করে আসছিল। কোন্দল নিরসন করার কারণেই দুর্নীতিবাজ নেতারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে উঠে সেলিমের বিরুদ্ধে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বেনজির আহমদ মানিক সেলিমের মুক্তির দাবী জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোষ্টও করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে লোক সরকারকে কোটি টাকা রাজস্ব দেয় সে কিভাবে ১০ লাখ টাকা চাঁদাবাজীর মামলার আসামী হয়। দ্রুত তার মুক্তির দাবী জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা শহরের একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা জানান, ক্ষমতাশীন দলের একজন প্রভাবশালী নেতাকে এভাবে ‘হাওয়াই মামলায়’ জড়ানোয় আওয়ামী লীগের জন্য কলংকজনক। যে বার যারা এ ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত তাদেরকে একটি জনসম্মুখে লজ্জা পেতো হবে।
শরীফ উদ্দিন জানান, যে ব্যক্তি ৩০ কোটি টাকা দিয়ে সরকারের কাছ থেকে যাদুকাটা বালি মহাল ইজারার নিয়েছেন, তিনি কিভাবে ১০ লাখ টাকার চাঁদাবাজি ও অপহরণ মামলার আসামি হন? বরং যারা যাদুকাটায় বিনা পয়সার ভাগিদার হতে পারেনি তারাই ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছে এবং সেলিমকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। সেলিমজে জেলে আটকে রেখে সেলিমের জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন