1. mdjoy.jnu@gmail.com : admin : Shah Zoy
  2. stvsunamgonj@gmail.com : Admin. :
সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ০৭:১৮ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
নাসিরসহ ছয়জনকে আসামী করে ধর্ষন চেষ্টা মামলা করেছে চিত্র নায়িকা পরিমণী দক্ষিণ সুনামগঞ্জে পঞ্চায়েতী কবরস্থান দখলমুক্ত করলেন উপজেলা প্রশাসন দোয়ারাবাজার থানার ওসি নাজির আলম বদলী আব্দুর রশিদ হত্যার ঘটনায় চেয়ারম্যানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা যাদুকাটা নদীর ইজারাবন্দোবস্ত বৈধ ঘোষনা করায় লাখো শ্রমিকের মুখে আনন্দের হাসি রাতের আধারে চলছে পাড় কাটার মহোৎসব: থামছে না ধোপাজান চলতি নদীতে ড্রেজার মেশিনের তান্ডব! সুনামগঞ্জে চোর ভেবে পিঠিয়ে হত্যার পর বেওয়ারিশ হিসেবে দাফনের অভিযোগ দক্ষিন সুনামগঞ্জে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে যুবক খুন তাহিরপুরে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচীর বেকার যুবকদের দৈনিক যাতায়াত ভাতা প্রদানে অনিয়মের অভিযোগ ছাতকে চাচাত ভাইয়ের হামলায় গুরুতর আহত ব্যবসায়ী এনাম মারা গেছে, আটক ২

শাল্লার হিন্দুদের বাড়ীতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় পুলিশ সুপারসহ ১১ জনকে বদলী, ৬ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ

Reporter Name
  • আপডেট করা হয়েছে রবিবার, ৯ মে, ২০২১
  • ১২২৫ বার পড়া হয়েছে

হাওরাঞ্চল ডেস্ক:

সুনামগঞ্জের শাল্লা থানার নোয়াগাও গ্রামে হিন্দুদের বসতবাড়ীতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ সদর দপ্তরের বিভাগীয় তদন্ত কমিটি। তদন্ত  প্রতিবেদনে সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপারসহ (এসপি) ১১ জনকে বদলি এবং ৬জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। গত ২৬ এপ্রিল পুলিশ সদর দপ্তরে তদন্ত প্রতিবেদনটি জমা দেয় তদন্তকারী টিমের প্রধান মফিজ উদ্দিন।

হেফাজত নেতা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে  স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে গেল ১৭ মার্চ মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের বসতবাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় অন্তত ৮৫টি ঘর ভাংচুর করা হয়। এ ঘটনার বেশ কয়েক দিন পর সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিনকে প্রধান করে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে পুলিশ সদর দপ্তর। কমিটির অপর সদস্য হলেন পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি অপারেশনস-১ মো.আয়ুব আলী। পরে ডিআইজি মফিজ উদ্দিন ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার জেদান আল মুসাকে তদন্ত কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেন। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ২৪ এপ্রিল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন এবং এ ঘটনায় সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের গাফিলতির সত্যতা পান। এ ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তাদের কি ধরনের গাফিলতি ছিল তা তদন্ত প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণ অংশে তুলে ধরা হয়েছে। প্

রতিবেদন সুত্রে জানা যায়, দিরাই সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সুফিয়ান ১৩ মার্চ থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত খাগড়াছড়িতে পুলিশ কমান্ডো কোর্সের প্রশিক্ষক হিসাবে কর্মরত ছিলেন। ২১ মার্চ তিনি দিরাই কর্মস্থলে যোগদান করেন। কিন্তু হামলার ঘটনায় করা মামলায় আসামিদের গ্রেফতারে তার বিশেষ কোনো কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয়নি। সুনামগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদীনের গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার সময় তিনি দিরাই সার্কেলের অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু হামলার পর তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেননি কিংবা কোনো পদক্ষেপও নেননি। প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, সুনামগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হিসাবে কর্মরত সাহেব আলী পাঠান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও আসামিদের গ্রেফতার ও মামলা তদারকিতে তার কোনো বিশেষ ভূমিকা ছিল না।

সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, নোয়াগাঁও গ্রামে হামলা এড়াতে শাল্লা থানার ওসি বিশেষ প্রতিবেদন পাঠিয়ে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েনের অনুরোধ করার পরও তিনি ১৬ ও ১৭ মার্চ পর্যন্ত সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে প্রতিরোধমূলক কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করেননি। ঘটনার আগে ও পরে শাল্লা থানার ওসি নাজমুল হক (সাময়িক বরখাস্ত ও বরিশাল রেঞ্জে সংযুক্ত) পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানকে অবহিত করেছিলেন।

ঘটনার আগের দিন রাতে দরাইন বাজার ও নোয়াগাঁও এলাকায় ডিউটিতে পাঠানো থানার পিসিসিতে উল্লেখ করা হলেও একই পুলিশ দলকে সুনামগঞ্জের অন্য পিসিসিতে পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ মোতায়েনের যে প্রমাণপত্র তিনি তৈরি করেছিলেন তা বিভাগীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি ও অসদাচরণমূলক। ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দাতা আপন দাসকে রাতেই গ্রেফতারের পর শাল্লা থানার পক্ষ থেকে কোনো ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ কারণে বাড়িঘরে হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। এর দায় ওসি নাজমুল এড়াতে পারেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দিরাই থানার ওসি আশরাফুল ইসলামের (মৌলভীবাজার জেলায় বদলি) দায়িত্ব অবহেলার কথা বলা হয়েছে। হামলাকারীদের অধিকাংশই ছিল দিরাই থানা এলাকার বাসিন্দা। দিরাই থেকে হামলাকারীরা গেলেও তাদের প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এমনকি ওসি আশরাফুল আগাম তথ্যও সংগ্রহ করেননি। হামলার খবর শুনেও পাশের থানার ওসি হিসাবে সঠিক সময়ে সাড়া দেননি।

শাল্লা থানার ডিউটি অফিসার এসআই আমির খসরুরও গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই দিনে দুই পিসিসিতে স্বাক্ষর করে একই পুলিশ দলকে দুটি ভিন্ন স্থানে ডিউটিতে পাঠিয়েছেন তিনি। কাজটি কিভাবে করেছেন তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। দায়িত্ব এড়ানোর জন্য তিনি প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন যা বিভাগীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি ও অসদাচরণ।

এ ছাড়া প্রতিবেদনে জেলা বিশেষ শাখার ডিআইও-১ নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন মৃধা, দিরাই জোনের ডিআইও এসআই হারুন-অর-রশিদ, ওয়াচার কনস্টেবল ইমরান আহমেদ, শাল্লা জোনের ডিআইও এএসআই সৈয়দ মুর্শিকুর রহমান আগাম তথ্য উপাত্ত সংগ্রহে ব্যর্থ হয়েছেন। সবকিছু পর্যালোচনা শেষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সুফিয়ানকে বদলি করার মতামত দিয়েছেন তদন্ত কমিটি। একই সঙ্গে শাল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুল হককে তদন্ত সংশ্লিষ্ট পদে পদায়ন না করার জন্যও সুপারিশ করা হয়েছে।

দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তদন্তসংশ্লিষ্ট পদে পদায়ন না করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। একইভাবে সুনামগঞ্জ জেলা বিশেষ শাখার পরিদর্শক ডিআইও-১ আনোয়ার হোসেনকে অন্যত্র বদলির সুপারিশ করা হয়েছে। এসআই আমির খসরু ও এসআই হারুন অর রশিদ, এএসআই মুর্শিকুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। ওয়াচার কনস্টেবল ইমরান আহমেদকে অন্যত্র বদলির সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া এ ধরনের হামলা ঠেকাতে সব ধর্মবর্ণের লোকজনকে নিয়ে নির্দিষ্ট সময় পরপর ধর্মীয় সম্প্রীতি সমাবেশ আয়োজনসহ ১০ দফা সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। সুত্র: যুগান্তর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন