1. mdjoy.jnu@gmail.com : admin : Shah Zoy
  2. stvsunamgonj@gmail.com : Admin. :
রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ০৩:৫৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু কবি আবদুন নূর’র ২য় কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন আন্তর্জাতিক সেবা দিতে ডুবাইতেও যাত্রা করলো এস. আল-মদিনা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল সিলেটের কিন ব্রিজের পাশে আরেকটি সেতু নির্মাণ করা হবে-সিলেটে পররাষ্ট্র মন্ত্রী আইডিইবি সিলেট জেলা শাখার কমিটি গঠন মসরুর সভাপতি, রফিক সাধারণ সম্পাদক হ্যানিম্যান হোমিওপ্যাথি সোসাইটির ৮ম বর্ষপূর্তি ও সংবর্ধনা সিলেট গোলাপগঞ্জে ছাত্রলীগের সিভি সংগ্রহ, উচ্ছসিত নেতাকর্মীরা সিলেট কুমারগাঁও-বিমানবন্দর সড়কে ফোর লেন কাজের উদ্বোধন করলেন-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ বিটিবিতে গান গাইবেন সংগীত শিল্পী আফতাব জুড়ীতে চলন্ত গাড়িতে হঠাৎ আগুন

শান্তিগঞ্জে উজিরের উপর নির্যাতনের ভয়াবহতা বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি’র আকবরকেও হার মানিয়েছে

Reporter Name
  • আপডেট করা হয়েছে বুধবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
  • ২৭০ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে পুলিশি নির্যাতনের ভয়াবহতা চাঞ্চল্যকর সিলেট বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ঘটনাকেও হার মানিয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। উজির মিয়ার মৃত্যু পূর্বে স্থানীয়ভাবে ধারনকৃত ভিডিও ফুটেজ দেখলে আতকে উঠেন সাধারন মানুষ।  নির্যাতনের ভয়াবহতা ফুটে উঠে তার সাথে আটককৃত দুইজনের মুখ থেকেও। যাদের দ্বারা মানুষ নিরাপদে থাকার কথা তাদের হাতেই যদি এ ধরনের জঘন্যতম ঘটনা ঘটে তাহলে পুলিশের উপর মানুষের আস্তা আরও কমে আসবে এবং পুলিশ প্রতিপক্ষ ভাবতে শুরু করভে সাধারন মানুষ। এটার উপযুক্ত শাস্তি হওয়া দরকার। দুএক জন অসৎ পুলিশ সদস্যের বির্তকিত কর্মকান্ডের কারণে ঘোটা পুলিশ বাহিনীর বদনাম হউক সেটা কাহারো কাম্য নহে। পুলিশি নির্যাতনের ঘটনা যেন কোনভাবেই ধামাচাপা না দেয়া হয় সে দিকে সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। নিহত উজির মিয়া গরু চোর সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করাই ছিল তার জীবনের কাল। ফুট ফুটে দুটি কন্যা সন্তান রেখে অকালে চলে যাওয়া উজির মিয়ার পরিবার এখন দিশেহারা। সন্তান দুটির দিকে তাকালে যে কাহারও চোখে পানি চলে আসবে। ভিডিও ফুটেজ দেখে ধারনা করা যায়, একটি মানুষ কতটুকু নির্দয় হলে অপর একটি মানুষকে বিনা অপরাধে পিঠিয়ে গুরুতর জখম করতে পারে ? পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা দিনরাত সাধারন মানুষের কল্যানে কাজ করেন এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। মানুষের চরম বিপদে পুলিশ এগিয়ে যায় আবার কিছু অসৎ পুলিশ সদস্যের কারণে পুরো পুলিশ বাহিনী পড়তে হয় সমালোচনার মুখে।

নিহত উজির মিয়াকে যেভাবে আটক করে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ : ‘রাত সাড়ে ১২টার দিকে অন্তত ১০-১৫ জন পুলিশ বাড়ি ঘেরাও করে। বড় ভাই উজির  মিয়া দরজা খুলতেই তার মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে এসআই দেবাশীষ। এরপর তার হাতে আঘাত করতে থাকেন একের পর এক।  তারপর গলা ধরে ঘর থেকে বাইরে নিয়ে পায়ে আঘাতের পর আঘাত করতে থাকেন পুলিশ সদস্যরা। আমি তখন পুলিশের পায়ে ধরেছি এবং আর না মারার অনুরোধ করেছি। তারপরও তাকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায় পুলিশ।’ ঘটনাটি গত ৯ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের শত্রুমর্দন গ্রামের উজির মিয়াকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার সময়ের কথা বর্ননা করেন তার চাচাত বোন। এ সময় অনেক লোকই উজির মিয়াকে গ্রেপ্তারের সময়ের নির্যাতনের বর্ণনা তুলে ধরেন। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, শুধু গ্রেপ্তারের সময় নয়, বরং শান্তিগঞ্জ থানায় নিয়েও ব্যাপক নির্যাতন করা হয় উজির মিয়াকে। সেদিন রাতে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়  আরও ২ জন শহিদুল ইসলাম ও আক্তার মিয়াকে। তাদের ওপরও চালানো হয়েছে নির্মম নির্যাতন। সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তারা নির্যাতনের ভয়াবহতার তথ্য তুলে ধরে শহীদুল ইসলাম জানান,’ গ্রেপ্তারের পর থানায় নিয়ে আলাদা রুমে রেখে ব্যাপক মারধর করা হয়। আলাদা রুমে উজির ভাইকে কীভাবে মেরেছে তা দেখিনি। পরে আমার সামনে এনে হাতকড়া লাগিয়ে লুঙ্গি মালকোঁচা বেঁধে প্রথমে সারা শরীরে লাঠি দিয়ে প্রহার করে। তারপর পায়ের তলায়। আমারও পায়ের তলায় লাঠি দিয়ে প্রহার করেছে।  রাত ১টার থানায় পৌঁছানোর পর নির্যাতন শুরু করে এবং ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে নির্যাতন বন্ধ করে। উজির ভাইয়ের অবস্থা খারাপ হওয়ায় আমাদেরকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান থানা পুলিশ।’ আক্তার মিয়া জানান, ‘আমাকে গ্রেপ্তারের সময় মুখে ঘুষি মারে। তারপর থানায় নিয়ে কোনো কিছু না বলে প্রথমে অনেক মারে। গরু চুরির সঙ্গে উজির জড়িত- এটা স্বীকার করাতে তাকে মারতে থাকে। আমি মার সহ্য করতে না পেরে মাথা নাড়লে তারা শান্ত হয়।’

পুলিশি নির্যাতনে নিহত উজির মিয়ার ফুট ফুটে দুটি মেয়ে নুসরাত জাহান মুক্তা (১০) ও সুমাইয়া আক্তার (৫) বাবা ফিরে আসার অপেক্ষায় ফেল ফেল করে চেয়ে থাকে। সারা রাত পিঠিয়ে উজির, শহিদুল ও আক্তার মিয়াকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানায় ফিরিয়ে আনা হলেও উজিরকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। শহিদুল ও আক্তার মিয়া আরও জানান, পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে কর্তৃব্যরত ডাক্তার জিজ্ঞাসা করলে পুলিশ তখন জানায়, চুরি করতে গিয়ে এরা গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছে। সকালে উজির মিয়াকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হলে তাকে আবারও থানায় নিয়ে আসা হয়। ১০ ফেব্রুয়ারি সকালে গরু চুরির মামলায় উজির, শহিদুল, আক্তার ও শামীম মিয়াসহ আরও কয়েকজনকে আদালতে হাজির করা হয়। আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত উজির, শহিদুল ও আক্তারের জামিন মঞ্জুর করেন। জামিনে মুক্তির পর দিন ১১ ফেব্রুয়ারি উজির মিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্বজনরা সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরদিন হাসপাতালের নিউরোসার্জারি ওয়ার্ড থেকে দেয়া ছাড়পত্রে তার অসুস্থতার কারণ হিসেবে ‘ফিজিক্যাল অ্যাসল্ট (শারীরিক আঘাত)’ উল্লেখ করা হয়। কান্নাজড়িত কন্ঠে উজির মিয়ার মা বৃদ্ধ বানুছা বেগম জানান, আমার সুস্থ্য ছেলেকে রাতে ধরে নিয়ে পুলিশ পিঠিয়ে তাকে মেরে ফেলেছে। আমি ন্যায় বিচার চাই। ১২ ফেব্রুয়ারি বাড়ি ফেরার পর থেকে বাড়িতেই ছিলেন উজির মিয়া। এরপর ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। পরে রাস্তায় ছাতক উপজেলার কৈতক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আটক এবং নির্যাতনের সঙ্গে শান্তিগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই ) দেবাশীষ সূত্রধর, উপ-পরিদর্শক পার্ডন কুমার সিংহ ও সহকারী উপ-পরিদর্শক আক্তারুজ্জামান জড়িত ছিলেন বলে দাবি করেন নির্যাতনের শিকার শহিদুল ও আক্তার। এসআই দেবাশীষ সুত্রধর ছাতক থানায় কর্মরত থাকাবস্থায় তার বিরুদ্ধে অনেক অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল কিন্তু তা কেউ সাহস করে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে আসেনি। পার্ডন কুমার সিংহ তাহিরপুর থানায় শিক্ষানবীশ এসআই থাকাবস্থায় তার বিরুদ্ধেও অভিযোগের পাহাড় ছিল কিন্তু ভয়ে ভুক্তভোগীরা পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করতে যায়নি।

গরু চুরির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে পাল্টা অভিযুক্ত হন নিহত উজির নিজেই: পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নবাসী ক্রমাগত সিঁদেল চুরি ও গরু চুরিতে অতিষ্ঠ হয়ে গত ২০ জানুয়ারি শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন উজির মিয়াসহ শত্রুমর্দন ও ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের ২১ নাগরিক। অভিযোগপত্রে শত্রুমর্দন গ্রামের শামীম আহমদ, আনর আলী, সাহাব উদ্দিনকে গরু চোর ও আরও ২ জনকে প্রশ্রয়দাতা হিসেবে চিহ্নিত করে অভিযোগ দেয়া হয়। এ ছাড়াও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বরাবর একই অভিযোগে গণস্বাক্ষর দাখিল করেন গ্রামের ১৬২ জন নাগরিক। গত ১০ ফেব্রুয়ারী রাতে শামীমকে সঙ্গে নিয়ে উজির, আক্তার ও শহিদুলকে আটক করে বলে জানান  নির্যাতনের শিকার আক্তার ও শহিদুল। শামীমের জবানবন্দির ভিত্তিতেই তাদেরকে আটক করা হয় বলে থানায় যাওয়ার পর জানতে পারেন তারা।

পরদিন তাদের গরু চুরির অপর এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয় উজির শহিদুল ও আক্তারকে। গত ১৪ জানুয়ারি মামলাটি শান্তিগঞ্জ থানায় দায়ের করেন উপজেলার আমরিয়া গ্রামের নুর উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি। এ মামলায় ৪ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হলেও আটক হওয়ায় চার জনের কাহারও নাম নেই। তাদের অজ্ঞাতনামা হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ।

মামলার সব নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আদালতে পাঠানোর নথিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক দেবাশীষ সূত্রধর বিভিন্ন মামলার আসামী শামীম মিয়াকে আসামি হিসেবে চিহ্নিত করলেও উজিরসহ বাকিদের সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে আদালতে পাঠান। একইসঙ্গে গ্রেপ্তারের সময় ধস্তাধস্তিতে তারা আহতও হয়েছেন বলে হাসপাতালের প্রাথমিক চিকিৎসায় উল্লেখ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত শহিদুল আরও জানান, ‘চিহ্নিত গরু চোর শামীম আমাকে বলে যে- আমি যেন উজিরকে গরু চুরের গডফাদার হিসেবে স্বীকার করে নিই। সে বলে একটা ‘পলিটিক্স’ হয়েছে, আমার কোনো সমস্যা হবে না।

পাগলা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উজির মিয়ার জানাজায় ভাতিজা সোহেল রানা তালুকদার জানান, ‘গরু চুরির সঙ্গে যে শামীম জড়িত, তা উজির জানতে পেরে প্রকাশ করে দেয়ায় তার মুল অপরাধ ছিল। তাই শামীম তার ভাগ্নে মনোয়ারের বুদ্ধিতে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করে উজিরকে ফাঁসিয়ে দেয় তার গডফাদার দাবী করে।

স্থানীয় মেম্বারের সঙ্গে শত্রুতাও আরেক কারণ : পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার রণজিত সূত্রধরের পরিবারের সঙ্গে পাচঁ বছর পূর্বে উজির মিয়ার পরিবারের দ্বন্ধ ও মারামারির ঘটনা ঘটেছিল। এ ঘটনায় উজির মিয়াসহ পরিবারের অনেককেই জেলে কেটেছেন।  দীর্ঘ বছর পরে রণজিত সূত্রধরই তার আত্মীয় শান্তিগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক এসআই দেবাশীষ সূত্রধরকে দিয়ে উজির মিয়াকে শায়েস্তা করতে গরু চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করার দাবি উজিরের পরিবারের।

উজিরের ভাই ডালিম মিয়া জানান, ‘থানায় মারধরের সময় এসআই দেবাশীষ, মেম্বার রনজিতের সঙ্গে পুরাতন মারামারির ঘটনা উল্লেখ করেন বলে ভাই বের হয়ে জেনেছিল। গরু চোর শামীমকে দিয়ে পুলিশই আমার ভাইকে মামলায় ফাঁসিয়ে নির্যাতন করে হত্যা করেছে।’ তবে এ দাবি অস্বীকার করেছেন মেম্বার রঞ্জিত সূত্রধর।

মেম্বার রঞ্জিত সুত্রধর জানান, ‘এসআই দেবাশীষ আমার বড় ভাইয়ের শ্বশুর বাড়ির দিকের আত্মীয়। তবে উজির মিয়ার সঙ্গে পুরাতন শত্রুতার জের ধরে পুলিশি নির্যাতনে আমার সম্পৃক্ততা নেই। তাছাড়া গ্রামবাসীর করা গরু চুরির অভিযোগে উজিরের সঙ্গে আমি নিজেও সাক্ষর করেছিলাম।’

ঘটনার বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য : সার্বিক বিষয়ে জানতে বুধবার সকালে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, ‘এই বিষয় নিয়ে ৩ দিন ধরে নিউজ করার কী আছে আমি বুঝি না। তদন্ত কমিটি হয়েছে। এ বিষয়ে এখন আর কোনো বক্তব্য আমি দিতে পারি না। গত সোমবার তিনি বলেছিলেন, ‘মৃতদেহ ময়নাতদন্ত শেষে যদি নির্যাতনের আলামত পাওয়া যায়, তবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মঙ্গলবার শান্তিগঞ্জের পাগলা স্কুল মাঠে উজির মিয়ার জানাজায় উপস্থিত জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (জগন্নাথপুর সার্কেল) শুভাশীষ ধর ও শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মুক্তাদির হোসেনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা ২ জনেই বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। যে মামলায় উজির মিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বা যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেসব বিষয়েও কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি তারা। তবে ওসি কাজী মুক্তাদির হোসেন জানান, ঘটনার সময় আমি থানায় ছিলাম না।

এ ব্যাপারে জানতে উপ-পরিদর্শক দেবাশীষ সূত্রধরকে ফোন দেয়া হলে তিনি ফোন ধরেননি। এ ছাড়াও এ প্রতিবেদন লেখার সময় উপ-পরিদর্শক আক্তারুজ্জামান ও পার্ডন কুমার সিংহ’র সঙ্গে যোগাযোগ করাও সম্ভব হয়নি।

হয়েছে ময়নাতদন্ত, গঠিত হয়েছে দুটি তদন্ত কমিটি: সোমবার উজির মিয়ার মৃত্যুর পর সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাগলাবাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করে মরদেহ নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদ জানান এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা। ৩ ঘণ্টাব্যাপী কর্মসূচিতে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। তখনই মরদেহ ময়না তদন্তের সিদ্ধান্ত গ্রহন করে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন।

মঙ্গলবার সকালে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে সিভিল সার্জন ও পুলিশের উপস্থিতিতে উজির মিয়ার ময়না তদন্ত শেষ হয়। পরে বিকেল ৩টায় পাগলা সরকারি মডেল হাইস্কুল মাঠে জানাজা শেষে গ্রামের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগসহ সার্বিক বিষয়ে তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ মঙ্গলবার ২টি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটির একটিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার-উল-হাকিমকে প্রধান করে জেলা প্রশাসনের ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিবেন ২৪ ফেরুয়ারি ও অপর কমিটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সাঈদকে প্রধান করে জেলা পুলিশের ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের কথা রয়েছে।  ন্যাযবিচার দাবী উজির মিয়ার পরিবার-স্বজন-এলাকাবাসীর:

৩ বোন ও ২ ভাইয়ের মধ্যে উজির মিয়া সবার বড়। বাবা কাচা মিয়া প্রয়াত ও মা বানেছা বেগম বয়োবৃদ্ধ। বিবাহিত উজির মিয়ার ২ মেয়ে নুসরাত জাহান মুক্তা (১০) ও সুমাইয়া বেগম (৫)। বাবা কাচা মিয়ার মতো উজিরও দীর্ঘ সময় সৌদি আরবে ছিলেন। দেশে ফিরেন বছর সাতেক আগে। দেশে এসে প্রথমে দোকান দিলেও পরে ছোট খাটো বিল ইজারা নিয়ে মাছের ব্যবসা শুরু করেন। ভাই ডালিম মিয়া একটি পরিবহন সংস্থার ম্যানেজার। উজির মিয়ার মৃত্যুতে ভেঙে পড়া পরিবারের সদস্যদের একটাই দাবী ন্যায়বিচার, ৩ পুলিশের শাস্তি।

সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে কান্নাজড়িত কন্ঠে বৃদ্ধ মাতা বানেছা বেগম তার ছেলেকে যারা নির্যাতন করে হত্যা করেছে  তাদের বিচার দাবি করেন। একই দাবি জানান, তার ভাই ডালিম মিয়া ও বোন সিপা বেগমসহ আত্মীয়-স্বজন ও শত্রুমর্দন গ্রামবাসী। একইসঙ্গে ঘটনার সাথে জড়িত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতির বিষয়েও জানান উজির মিয়ার পরিবারের সদস্যরা। মামলার জন্য সব নথিপত্র জোগাড় করা হয়েছে বলেও জানান তার ভাই ডালিম মিয়া।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ জানান, ‘আইনের বাইরে বের হয়ে যখন পুলিশ কাজ করে, তখন সে আর পুলিশ থাকে না। এর দায় তার ব্যক্তিগত। আমরা এই পুলিশ সদস্যদের অপরাধের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার যাতে প্রভাবিত না হয় সে জন্য অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের থানা থেকে প্রত্যাহারেরও দাবি জানাচ্ছি।’

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন