1. mdjoy.jnu@gmail.com : admin : Shah Zoy
  2. satvsunamgonj@gmail.com : Admin. :
বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন
  •                          

হাওরাঞ্চলের কথা ইপেপার

ব্রেকিং নিউজ
সহিংসতা করে কেউ পার পাবে না : ইসি আলমগীর তৃতীয় ধাপে দেশের ৮৭ উপজেলায় ভোটগ্রহণ কাল গাজায় মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে ডয়েচে ভেলেকে তথ্যচিত্র তৈরির আহ্বান তথ্য প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী-সন্তানসহ বেনজীরকে দুদকে তলব ক্রিকেট: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রস্তুতি ম্যাচ বাতিল আনোয়ারুল হত্যা : কলকাতার ওই ফ্ল্যাটের সেপটিক ট্যাংক থেকে মাংসের টুকরা উদ্ধার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুইজন সহকারী প্রভোষ্ট নিয়োগ রাজনীতিতে নারীর ক্ষমতায়নকে ত্বরান্বিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার কাজ করছে— এমপি রুমা চক্রবর্তী সিলেট নাসিং হোস্টেল যেন মিনি কারাগার! পাসপোর্ট অফিসে কোন ধরনের হয়রানী সহ্য করা হবে না— যুগ্ম সচিব নাসরিন জাহান

রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরাতে কোটি টাকার পাচার বানিজ্য: ছাতক দোয়ারা সীমান্তে চোরাচালানে জড়িত যারা

Reporter Name
  • আপডেট করা হয়েছে বুধবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৩
  • ২৩০ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের ছাতক—দোয়ারা বাজার সীমান্তে বেপরোয়া চোরাচালান সিন্ডিকেট। প্রতি রাতেই ভারত থেকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে দেশে প্রবেশ করছে চোরাচালানী পণ্য কসমেটিক্স, গরু, মহিষ, মাদক, কাপড়, নাসির বিড়ি, পান, কাঠ, মদ, ইয়াবা, অস্ত্র, মোটর সাইকেল, চিনি, কাঁচা সুপারি ইত্যাদি পণ্য।

বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচার হচ্ছে রসুন, ছোলাবুট, মাছ, চিপস, মেলামাইন, সিরামিক, কুচিয়া মাছ, শুকনো সুপারী, পটের দুধ, মটরসুটি, মশুরী ডাল,পানির ফিল্টার,হাঁস—মুরগি, গরুর চামড়া ইত্যাদি পণ্য। দোয়ারাবাজার উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন বাংলাবাজার, বোগলা বাজার, লক্ষীপুর, নরসিংহপুর ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রতি রাতেই পাচার বানিজ্য চলছে।

সীমান্ত রক্ষী বিজিবি’র প্রত্যক্ষ মদদে ও পুলিশ, র‌্যাব,ডিবিসহ গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনও পাচ্ছেন ভাগ। স্থানীয় কিছু জনপ্রতিনিধি নামধারী নেতারাও পাচার বানিজ্যে জড়িত। প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার পণ্য আমদানী রফতানী হচ্ছে বিনাশুল্কে। বোগলা বর্ডারহাট হচ্ছে চোরাকারবারীদের মধ্যস্থতার প্রধান পথ। এখানে বসেই তারা পাচার বানিজ্যের চাহিদা নির্ধারন করে এবং হুন্ডির মাধ্যমে দেশের টাকা ভারতে পাচার করছে। সবচেয়ে বেশী পাচার বানিজ্য হচ্ছে দোয়ারাবাজারের কলাউরা পয়েন্ট। কলাউরার দিকে তারের বেড়া না থাকায় অনায়াসে আসছে গরু মহিষ ও ভারতীয় পণ্য। যেহেতু আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের ম্যানেজ করেই পাচার বানিজ্য চলছে সেক্ষেত্রে ভারতীয় পণ্যের সাথে আসছে অস্ত্র ও মহিষের পেঠের ভিতরে করে আসছে ইয়াবার বড় চালান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চোরাকারবারী জানায়, মহিষের পাচা বড় বিধায় ১০ হাজার পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট পলিথিনে মুড়িয়ে সাদা সুতা লাগিয়ে মহিষের পায়খানার রাস্তা দিয়ে ঢুকিয়ে দেয়া হয় এবং একটি সুতা থাকে দেশে নিরাপদে নিয়ে আসার পর ঐ মহিষের পেঠ থেকে সুতা ধরে টান দিলে বেরিয়ে আসে। আর এভাবেই চলে ইয়াবার ব্যবসা। প্রতিটি মহিষ পরীক্ষা করলেই বেরিয়ে আসবে সত্য ঘটনা। এ ছাড়াও কসমেটিকের সাথে আসছে অস্ত্র ও গুলি। কারণ এগুলো কেউ চেক করে না। দেশের রাজনৈতিক সংকট চলা অবস্থায় কত কত অস্ত্র আসছে একমাত্র আল্লাহই জানে।

স্থানীয় একাধিক সুত্র জানায়, প্রতি রাতে বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব, ডিবি ও বিভিন্ন সংস্থার লোকজন কয়েক কোটি টাকার ভাগ ভাটোয়ারা পাচ্ছেন। প্রতিটি মহিষের জন্য বিজিবি’র সোর্স নিচ্ছে ৩ হাজার, পুলিশ ১ হাজার, ডিবি ৫শ টাকা করে।  সাধারন মানুষের ফসলী জমি ও বাড়ীঘর ক্ষতিগ্রস্থ করলেও বিচার পাচ্ছেন কোথাও। ভারত থেকে আসা গরু—মহিষের পায়ের চাপে পৃষ্ট হচ্ছে অনেক দরিদ্র কৃষকের ফসলী জমি ও সবজি বাগান। আর এসব বানিজ্যের প্রধান গডফাদার হিসেবে বার বার যার নাম উঠে আসছে সে বোগলাবাজার ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান বুলবুল মেম্বার। প্রতি সপ্তাহেই স্ব স্ব সংস্থার টাকা পৌছে দিচ্ছেন স্ব স্ব সোর্সদের মাধ্যমে। স্থানীয় কিছু গণমাধ্যমকমীর্দের মাঝেও কেউ কেউ ভাগ ভাটোয়ারা পাচ্ছেন বলে সুত্র জানিয়েছে। সরজমিন ঘুরে জানা যায়, বিভিন্ন পয়েন্টে বিজিবি, পুলিশ,ডিবি ও র‌্যাবের সোর্স রয়েছে। তাদের মাধ্যমেই অবৈধভাবে পাচার বানিজ্যের অর্থ লেনদেন হওয়ার কারণে কোন সংস্থাই ভারতীয় চোরাচালানী পণ্য আটক করছে না। মাঝে মধ্যে লোক দেখানো দুএকটি অভিযান হলেও আসামীকে ধরা হয়নি। কারণ চোরাচালানীরা মিলেই মাসে দু চারটি অভিযান সফল করতে সহায়তা করে থাকেন। দোয়ারাবাজার উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ৬টি বিওপি ক্যাম্প রয়েছে। চোরাচালানী রুট হিসেবে বাংলাবাজার ইউনিয়নের কলাউড়া ১২৩৬ পিলার প্রতি রাতে কোটি টাকার লেনদেন হয়ে থাকে। সীমান্তের কোন কোন এলাকায় চোরাচালানী ঘাট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে সেগুলোর মধ্যে বাংলাবাজার ইউনিয়নের কলাউড়া ১২৩৬ পিলার, শিমুলতলা, বাশতলা, পেকপাড়া, বোগলাবাজার ইউনিয়নের বাগান বাড়ি, গাছগড়া, ইদুকোনা লক্ষীপুর ইউনিয়নের ভাংগাপাড়া, মাঠগাও, দৌলতপুর, নরসিংপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর, শ্যামারগাও, চাইরগাও পয়েন্ট। রাত ১০টা থেকে ফজরের আজান পর্যন্ত চলে পাচার বানিজ্য। গরু মহিষ পাচারের জন্য দোয়ারাবাজার থেকে নরসিংহপুর হয়ে ছাতক গোবিন্দগঞ্জ হয়ে জগন্নাথপুর রানীগঞ্জ কিংবা সিলেটের তেমুখী বাইপাস রাস্তা ব্যবহার করে থাকেন। চোরাচালানে জড়িত ব্যাক্তিদের মধ্যে কলাউড়া সীমান্ত —বাংলাবাজার বিজিবি সোর্স খোয়াজ আলী, আব্দুল মজিদ ও খলিল মিয়া, থানার সোর্স আবুল কালাম, জাহাঙ্গীরগাও গ্রামের নুরুল ইসলামের পুত্র আব্দুল হক ডিবি’র সোর্স হিসেবে কাজ করেন। বাংলাবাজার ইউনিয়নের তেরাপুর গ্রামের মৃদ সাদ উল্লাহর পুর চেরাগ আলী, সনুগা গ্রামের মৃত ইশাদ আলীর পুত্র আরব আলী,কুশিউরা গ্রামের মৃত রুস্তম আলীর পুত্র সুলতান মিয়া,মিয়াবাড়ী গ্রামের আব্দুল আজিজ ওরফে সুমন আজিজ, কলাউরা গ্রামের আনোয়ার ওরফে নতুন আনোয়ার,একই গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের পুত্র কাশেম মিয়া, আবু তাহের,জয়নাল আবেদীনের পুত্র হাসেম মিয়া, সুজন মিয়া, নজির মিয়া, কুশিউরা গ্রামের তাইজুল ইসলাম,একই গ্রামের কাহার মিয়া, তোফাজ্জল, কিরনপাড়ার আফজাল, সনুগাও এর আরজ আলী, কাইয়ুম মিয়া ওরফে হোটেল কাইয়ুম, জাহাঙ্গীর গাও এর নজরুল ইসলাম, মিদ্দার পাড়ার মো: সামসুদ্দিন, বড়খাল গ্রামের আবুল হোসেন চেয়ারম্যানের ভাতিজা দেলোয়ার হোসেন, সাং জাহাঙ্গীর গাঁও এর আমির উদ্দিন,মিদ্দার পাড়ার কামরুল ইসলাম, মো: কামরুল ইসলাম,পিতা মৃত ইয়াকিন আলী সাং মিদ্দার পাড়া, অনন্ত মোহন দাস উরুফে কালা, পিতা অমূল্য মোহন দাস, সাং দোয়ার গাঁউ, মো: শিব্বির আহমেদ, জাহাঙ্গীর গাঁও, মো:সালে আহমদ, সাং ছুমকির গাঁও, মো: ফিরুজ মিয়া, সাং লেদার কান্দি নসিমপুর, শাহ আলম পিতা লুতু মিয়া সাং মৌলারপাড়সহ অজ্ঞাত নামা চোরাকারবারীরা। এ দিকে  বোগলাবাজার ইউনিয়নের চোরাকারবারিদের সেল্টার দাতা বুলবুল মেম্বার, শারফুল মিয়া, কাউছার মিয়া লক্ষীপুর ইউনিয়নের সেল্টার দাতা আব্দুল করিম (সাবেক চেয়ারম্যান আমিরুল হকের ভাই) আব্দুল্লাহ আল মামুন (সাবেক চেয়ারম্যান আমিরুল হকের ভাতিজা) বাশতলা, পেকপাড়া, ইদুকোনা সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে যারা সেল্টার দাতা খোরশেদ পিতা আব্দুল হাসনাত, খোরশেদ পিতা আব্দুল কাদির  মোঃ খোরশেদ আলম (৩৫), পিতা— আবুল হাসনাত উরুফে মোঃ মহর আলী, মোতালেব (৪৫), পিতা— সুলেমান সাং— পেকপাড়া, খোরশেদ পিতা আব্দুল কাদির সাং বাশতলা, মিছির মিয়া পিতা মৃত মনির মিয়া সাং ঝুমগাও, মাহতাব মিয়া পিতা হাছিব উদ্দিন  সাং ঝুমগাও, নজরুল পিতা রহমান সরদার সাং পেকপাড়া, রাব্বিল পিতা আব্দুল হক সাং কলোনি, মাসুক পিতা আব্দুল কাদির সাং বাশতলা, মোঃ রুপচান (৪৫), পিতা— জালাল উদ্দিন, সাং— বাঁশতলা, কাশেম (৪০), পিতা— আব্দুল বারেক, মোঃ আলাল মিয়া (৩৫) পিতা— গনু মিয়া, মোঃ সুহেল মিয়া (৩২), পিতা— আরিফ , মোঃ মাসুক মিয়া (৪২), পিতা— দিদ্দিক আলী, মোঃ শফি উদ্দিন (৪৩), পিতা— মিয়া হোসেন, আসমত আলী (৫৫), পিতা— মৃত আলীম মোল্লা, মোঃ ইসরাফিল (৩৬), পিতা— মোঃ ম্যানা মিয়া, নয়ন মিয়া (২৮), পিতা— আজাদ মিয়া, মোঃ উজ্জ্বল মিয়া (২২), পিতা— মর্তুজ আলী, আকবর আলী (৩৮), পিতা— ইরাব আলী, সর্ব সাং— পেকপাড়া, মাসুক মিয়া (৪০), পিতা— লোনী, মোঃ ফখর উদ্দিন (৩৬), পিতা— নুর ইসলাম, সাং— কালিটিলা, মোঃ সিরাজ  মিয়া (৩৫), পিতা— মোঃ তোতা মিয়া, ইসলামপুর ঝুমগাও, তাইজুল ইসলাম, পিতা মো: সুনা মিয়া, সাং বাশঁতলা, মো: সজল মিয়া, পিতা মো: সহিদ মিয়া সাং বাশঁতলা দক্ষিণ কোলোনি অন্যতম চোরাকারবারীরা।

বোগলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বুলবুল জানান, আমি চোরাচালানের সাথে কখন জড়িত নই।

২৮ বিজিবি’র কমান্ডিং অফিসার লে.কর্ণেল মাহবুবুর রহমান এর বক্তব্য জানতে বার বার কল দিলে রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

সুনামগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সাঈদ জানান, চোরাচালান রোধে পুলিশ কাজ করছে। সঠিক তথ্য উপাত্ত দিতে পারলে সাথে সাথে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আমার কোন পুলিশ সদস্য জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।  চোরাচালানীদের কোনভাবে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ছাড় দেয়া হবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন