1. mdjoy.jnu@gmail.com : admin : Shah Zoy
  2. stvsunamgonj@gmail.com : Admin. :
রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:২৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য হলেন শাল্লার টিটু দাস সিলেটে বাংলাদেশ নারী মুক্তি সংসদের জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত সুনামগঞ্জের শামীমসহ ‘দুই জঙ্গি’ ছিনতাই : বিভিন্ন স্থানে পুলিশের ব্লক রেইড আর্তমানবতার সেবায় রেড ক্রিসেন্ট অসাধারণ ভূমিকা রাখছে-নাসির উদ্দিন খান লায়ন্স ক্লাব এর খাদ্য সামগ্রী বিতরণ উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভাটি এলাকা আর পিছিয়ে থাকবে না-পরিকল্পনামন্ত্রী এম. এ. মান্নান সিলেট মোটরসাইকেল পার্টস মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের বার্ষিক সাধারণ সভা খালেদার বাসায় প্রবেশের সড়কে পুলিশের চেকপোস্ট বিজয়ের মাসে বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ’র উদ্যোগে সিলেটে শীতবস্ত্র দান সিলেট শহরতলীর দক্ষিণ সুরমায় অবৈধ শিলংতীর জুয়া ও মাদকের জমজমাট আসর

যাদুকাটা নদীর বিশাল বালি রাশি তিন উপজেলার মানুষের গলার কাঁটা: ফসলী জমি, ঘরবাড়ী ও পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংঙ্খা

Reporter Name
  • আপডেট করা হয়েছে মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল, ২০২১
  • ২২১ বার পড়া হয়েছে

 

বিশেষ প্রতিনিধি:

পাহাড়ী ঢলের পানির সাথে ভেসে আসা বিশাল বালিরাশী খর¯্রােতা যাদুকাটা নদীর মোহনায় পড়ে বিশাল স্তুপে পরিনত হয়েছে। প্রতি বছর বন্যার পানির সাথে ভেসে আসা বালি নদীর দুপাড়ের ঘরবাড়ী, ফসলী জমি, স্থাপনা ভেঙ্গে নিয়ে যায় প্রচন্ড ভেগে। নদীর লাউড়ের ঘর মোহনায় বিশাল বালির স্তর পড়ে ভরাট হয়ে নদীটি এখন মরা নদীতে পরিনত হয়েছে।

এই নদীতে যুগ যুগ ধরে তিন উপজেলার লক্ষাধিক শ্রমিক বালি ও পাহাড়ী কয়লা উত্তোলন করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। গেল এক বছর ধরে স্থানীয় স্বার্থান্বেসী মহলের প্রত্যক্ষ মদদে সরকারকে ভুল বুঝিয়ে বালি উত্তোলন বন্ধ রাখা হয়। যার ফলে একদিকে মানুষের কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে গেছে অন্যদিকে বিশাল বালি রাশি উত্তোলন না করায় নদীর বুকে বিশাল চর জেগে নদীটি ভরাট হয়ে গেছে। নদীটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় পাহাড়ী ঢল ও বন্যার পানির নদীর দুপাড়ের ৪০/৫০টি গ্রামের মানুষের ঘরবাড়ী, ফসল জমি ও স্থাপনা গুড়িয়ে যেতে পারে এবং ফসলী জমিতে পাহাড়ী ঢলের পানি এসে ভরাট হয়ে মরুভুমিতে পরিনত হতে পারে বলে স্থানীয়রা আশংঙ্খা করেছেন। সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বালি মহালটি ইজারা দেয়া হলে ঐ দুষ্টচক্রটি আবারও সক্রিয় হয়ে উঠে এবং মহামান্য হাইকোর্টে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে ইজারা বন্দোবস্ত স্থগিতাদেশ হাসিল করেন। নদীটি পুরনায় চালুর দাবীতে ইতিমধ্যে হাজার হাজার শ্রমিক আন্দোলন করছেন এবং কাজের দাবীতে মানববন্ধন করছে।

সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, যাদুকাটা ও মাহারাম নদীর মূখে বালি জমে নদীর নাব্যতা নষ্ট হয়ে গেছে। আগামী বর্ষা মৌসুমে ঢলের পানিতে ভেসে আসা বালি নুড়ি পাথর নদীতে আটকে নদীর ধারণ ক্ষমতা কমে যাবে এবং বন্যার পানি নদীর দুতীর উপচে আশপাশের ফসলী জমি, বসতি ও নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে ভয়াবহ পরিবেশের বিপর্যয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গত দুই বছর যাবৎ বালি উত্তোলন বন্ধ থাকায় মানুষের আয় রোজগার কমে গেছে এবং যাদুকাটা নদীর নাব্যতা বিনষ্ট হয়েছে। নদীর মুখে পড়ে থাকা এই বিশাল বালি এখনই না সরাতে পারলে আমাদের আশ পাশের ৪০/৫০টি গ্রামের মানুষ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পরতে পারেন। পাহাড়ী নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে আমাদের ফসলী জমি ও বাড়ীঘর ভেঙ্গে যেতে পারে। পাহাড় থেকে নেমে আসা বালি উত্তোলন করলে পরিবেশ কিংবা সরকারের কোন ক্ষতি হয় না বরং এই বালি বিক্রি করে স্থানীয় মানুষের জীবন জীবিকা বৃদ্ধি পায়। নদী যখন বন্ধ থাকে এলাকায় চুরি ডাকাতি বেড়ে যায়। আমাদের এলাকায় কোন কলকারকানা না থাকায় এক ফসলী জমির ফসল উঠানোর পর আমাদের আর কোন কাজ থাকে না। তখন বেকার হয়ে মানুষ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়ে আইনশৃংখলার অবনতি ঘটায়। পাহাড়ী ঢলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে যে কোন জনপথ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে হাজার হাজার হেক্টর আমন ও বোর ফসলী জমি বালির চাপায় মরুভুমিতে পরিনত হবে। অচিরেই নদী ড্রেজিং করে বালি সরাতে হবে অথবা বা অন্য কোন উপায়ে বালি না সরালে আশপাশের পরিবেশ ও জনজীবনের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ফরিদুল হাসান জানান, যাদুকাটা নদীর মোহনায় বালি পড়ে বিশাল স্তুপ সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো অপসারণের জন্য  জেলা প্রশাসনের মিটিংয়ে কথা বলেছি, জানিয়েছি যাদুকাটার উৎস মূখের বালি খনন করে না সরালে ঐ এলাকার আমন ও বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে। জেলা প্রশাসক মহোদয় জানিয়েছেন কতিপয় লোকের মামলার কারণে কিছু করা যাচ্ছে না।

তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান করুনাসিন্ধু চৌধুরী জানান, বোরো ফসলের স্বার্থে হাওরের পানির ধারণ করার জন্য প্রায় ভরাট হওয়া নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা খুবই দরকার।  বর্তমান সরকার রক্তি, বৌলাই নদীগুলো খনন করতে শত শত কোটি টাকা ব্যয় করছেন।  যাদুকাটার উজানে যে পরিমান বালি জমেছে তা খনন করা না খননকৃত রক্তি ও বৌলাই নদী ভরাট হবেই। তাছাড়া ঐসব এলাকার ফসলী জমির উপর বালি পরে কৃষি, জানমাল ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয় বাদাঘাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন জানান, বিষয়টি আমরা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে জানিয়েছি। নদীর মোহনায় জমে থাকা বিশাল বালিরাশি এখনই সরানো না হলে আমাদের ঘরবাড়ী, ফসলী জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা পাহাড়ী ঢলের তোড়ের মুখে পড়ে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। সকল উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নলেজে বিষয়টি রয়েছে বলেও তিনি জানান।

সুনামগঞ্জ পাউবোর প্রকৌশলী সবিবুর রহমান জানান, আমি নিজে সরজমিনে পরিদর্শন করেছি। যাদুকাটা ও মাহারাম নদীর উৎস মূখে বালি জমে  নদীর নাব্যতা হারিয়ে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড় থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও  বন্যার পানি সঠিকভাবে পরিচালনা করতে বাধার মুখে পড়ে আশপাশের ফসলী জমি ও বাড়ীঘরের উপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে এবং ফসলী জমির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।  হাওরের ফসলী জমি ও নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে। তিনি আরও জানান পূর্বে জেলা প্রশাসন ইজারা প্রথার মাধ্যমে যাদুকাটার বালি উত্তোলন করার কারণে নদীর উৎস মুখে বালি জমতো না কিন্তু বর্তমানে মামলা জনিত কারণে বালি মহালটি ইজারা বন্ধ রয়েছে। নদীর উৎস মুখ খনন করে বাালি সরানোর বিষয়ে আমরা আমাদের উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, যাদুকাটার নদীর মোহনায় পড়ে থাকা বিশাল বালি রাশি সারানোর চিন্তা আমাদের রয়েছে কিন্তু মামলা জনিত কারণে কিছু করা যাচ্ছে না। যাদুকাটার বালি না সরালে ফসলী জমির ক্ষতি ও পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্ভাবনা রয়েছে মর্মে আমরা উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি এবং মহামান্য সুপ্রিমকোর্টে মামলাগুলো নিস্পত্তির জন্য সলিসিটর বরাবরে পত্র পাঠিয়েছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন