1. mdjoy.jnu@gmail.com : admin : Shah Zoy
  2. stvsunamgonj@gmail.com : Admin. :
বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১১:৪৭ অপরাহ্ন

মুজিব কোর্ট পড়া কে এই রাসেল ? মৌলভীবাজার আ’লীগের নেতা,এমপি,মন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতারনার অভিযোগ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
  • আপডেট করা হয়েছে মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২১
  • ৮৬৯ বার পড়া হয়েছে

কে এই রাসেল? কি তার পরিচয়? মৌলভীবাজার জেলা আ’লীগের প্রভাবশালী নেতা, এমপি ও মন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন? গাঁয়ে মুজিব কোর্ট, অন্তরে ধান,মুখে জয়বাংলা শ্লোগান নিয়ে মৌলভীবাজার জেলা আ’লীগের সিনিয়র নেতা, এমপি ও মন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। কাউকে দিচ্ছেন চাকুরী আবার কাউকে পাঠাচ্ছেন প্রবাসে। বিভিন্ন থানার ওসিদের সাথে রয়েছে গভীর শখ্যতা। নিরীহ মানুষকে হয়রানী করছেন? কখনও নিজেকে যুবলীগ, কখনও ছাত্রলীগ ও আবার কখনও জেলা আ’লীগের নেতা পরিচয় দিচ্ছেন প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী জানান, রাসেল আগে বিএনপি’র একনিষ্ট কর্মী ছিল। বর্তমানে আ’লীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। আসলে রাসেল সুবিধাবাদী ও ক্ষমতাসীন দলের ছায়াতলে থাকতে পছন্দ করেন। সে কখনও বিরোধী দলের কর্মী হিসেবে ছিলেন না। যখন যে দল ক্ষমতায় আসেন সেই দলের প্রভাবশালী নেতাদের সাথে গভীর সখ্যতা তৈরী করে নানান অনৈতিক সুবিধা হাতিয়ে নেন। সত্যিকার অর্থে রাসেল আহমদ ছিলেন বিএনপি’র একনিষ্ট কর্মী। জেলা আ’লীগের নেতৃবৃন্দের নিকট আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন থানাসহ অফিস-আদালতে তদবির বাণিজ্যে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। সে কথায় কথায় বলে বেড়াচ্ছেন আওয়ামীলীগ নেতারা এখন তার কব্জায়। মন্ত্রী, এমপি, মেয়র ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তার কথায় উঠবস করেন। তাই তার দাপটে আওয়ামীলীগের ত্যাগি নেতারা শুধু কোণঠাসা হননি অনেক নিরীহ মানুষ ও আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। মৌলভীবাজার জেলার ক্লিন ইমেজের রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত মৌলভীবাজার পৌর মেয়র ফজলুর রহমানের ইমেজও নষ্ট করছেন এই রাসেল। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিছবাউর রহমান ও মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনের এমপি নেছার আহমদসহ আওয়ামীলীগ নেতাদের ঘনিষ্টজন দাবি করে সরকারী কর্মকর্তা ও সাধারন মানুষের সাথে প্রতারনা করে আসছেন। বিএনপি সরকারের আমলে সে বিএনপির সন্ত্রাসী ক্যাডার বাহিনীর প্রধান হয়ে মুকুট বিহীন সম্রাট হিসেবে ফেনসিডিল, গাঁজা, হেরোইন ও ইয়াবার শক্তিশালী নেটওয়াক গড়ে তুলেছিলেন। এক সময় তার নামের পাশে ফেন্সি রাসেল যুক্ত হয় এবং বিভিন্ন স্থানে মারামারি, চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজিরমত জগন্যতম অপরাধের নেতৃত্ব দিয়েছিল কিন্তু বর্তমানে তার ভয়ে সাধারণ মানুষ কোন আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া দুরের কথা টু শব্দই করতে পারেন না। অথচ বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় ছিতাইয়ে জড়িত থাকায় তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছিল। মৌলভীবাজার জেলা জজ কোর্টের নকল বিভাগে কর্মরত কর্মচারি শাহ দিদারুল আলমের কাছে রাসেল চাঁদা দাবি করেছিল। তার চাহিদা অনুয়ায়ি চাঁদা দিতে অস্বিকার করায় ২০০৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর দিনে দুপুরে জজ কোর্টের কর্মচারি শাহ দিদারুল আলমের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছিল এই রাসেলের নেতৃত্বে। ঐ ঘটনায় দিদারুল আলম নিজে বাদী হয়ে রাসেলকে আসামী করে মৌলভীবাজার থানায় মামলা রুজু হয়েছিল। মৌলভীবাজার সদর থানার মামলা নং-১০ তারিখ:-০৮/০৯/২০০৫ইং। ঐ মামলায় রাসেলসহ তিনজনকে আসামী করা হলে দীর্ঘ দিন পলাতক ছিলেন। মৌলভীবাজার পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা শতশত নারী-পুরুষ অভিযোগ করে জানান, রাসেল সক্রিয় বিএনপি কর্মী হলেও ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর নিজের খোলস পাল্টিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশ করে কিছু দলকানা নেতার আশ্রয়ে আওয়ামীলীগের মাঝে গাঁ ভাসিয়ে দেয়। এর ধারাবাহিকতায় বিগত পৌরসভা নির্বাচনের আগ মূহুর্তে স্থানীয় লোজনের মধ্যে প্রচার করতে থাকে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মিছবা উর রহমানের মনোনীত ৩ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী। তাই মৌলভীবাজার পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েই মুজিব কোর্ট পড়তে শুরু করেন। মুজিব কোর্ট পড়ে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় অংশ গ্রহণ করেছেন। তার নিজের নির্বাচনী প্রচারণার সময় গাঁয়ে মুজিব কোর্ট ও আওয়ামীলীগের দলীয় শ্লোগান ব্যবহার করে নির্বাচনী বৈতরণী পাড় হওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। ওর্য়াডবাসী তার চালাকি বুঝতে পেরে ভোট না দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছিল। তাছাড়া নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর তার থলের কালো বিড়ালের মুখোশ উন্মোচন করে দেয় নির্বাচন কামিশন। পৌরসভার নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশিত গেজেটে মৌলভীবাজার পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্ধিতা সীটে বিএনপি সর্মথিত উপপাখি প্রতিকের রাসেল আহমদ আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী মো: নাহিদ হোসেনের টেবিল ল্যাম্প প্রতিকের কাছে ধরাশায়ী হন। উপপাখি প্রতিক পেয়েছিল ৮৪৪ ভোট আর আ’লীগ সমর্থিত টেবিল ল্যাম্প প্রতিকে ১ হাজার ৯৭টি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিল। নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পর প্রতারক রাসেলকে নিয়ে পৌরবাসীর মধ্যে ব্যঙ্গাত্মক হাস্যরসের সৃষ্টি হয়। এলাকা জুড়ে শুরু হয় তোলপাড়। রাসেল সর্ম্পকে খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, রাসেল আহমদ মৌলভীবাজার পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বনবীথি এলাকায় বসবাস করলেও তার গ্রামের বাড়ি জেলার রাজনগর উপজেলার ৮ নং মনসুরনগর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের বক্সিকোনা গ্রামের মন্নান মিয়ার ছেলে। তার পিতা মন্নান মিয়া ১৯৭৬ সালে তার মাকে বিয়ে করেন। তাদের দেশে রেখে ১৯৮৪ সালে এক ব্যক্তির দেহরক্ষী হিসেবে ভিজিট ভিসায় মন্নান মিয়া পিতার জমি-জমা বিক্রি করে লন্ডনে পাড়ি দেন। কিন্তু কিছু দিন পরই ঘটে বিপত্তি পরনারীতে আসক্ত হয়ে লন্ডনে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুবিধা নিতে বাংলাদেশেী ব্রিটিশ নাগরিক নিজের এক আত্মীয়ের বিধবা স্ত্রীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন মন্নান। লন্ডনে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। দেশে থাকলে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতেন। লন্ডন যাওয়ার পর বিএনপিতে যোগদান করে স্বঘোষিত মুক্তিযোদ্ধা বলে নিজেকে পরিচয় দেন। তিনি কোন সেক্টরে কার অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেছেন তার সঠিক তথ্য নিজেই দিতে পারেন না লন্ডনী মান্নান।
রাসেল আহমদ জানান, আমি কোন রাজনৈতিক দল করিনা। মৌলভীবাজার পৌর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত গেজেটে ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে বিএনপি সমর্থিত উটপাখি প্রতিকের প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী হিসেবে নাম অর্ন্তভুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার শত্রুুপক্ষের লোকজন ভুল বুঝিয়ে আমাকে বিএনপি সমর্থিত প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীর তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। আমার কাছে আরও একটি তালিকা আছে যার মধ্যে দলীয় সমর্থিত কোন প্রার্থীর নাম নেই। মুজিব কোর্ট পরা সর্ম্পকে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমি আওয়ামীলীগ সর্মথন করি। মৌলভীবাজার জেলা আ’লীগের সভাপতি ও মৌলভীবাজার সদর আসনের এমপি নেছার আহমদ জানান, রাসেল আহমদ আওয়ামীলীগের কোন নেতা নয়। তবে সে আ’লীগ সমর্থন করে এবং মৌলভীবাজার ক্রিকেটের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। তবে দলের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রভাব বিস্তার করার তথ্য আমার জানা নেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন