1. mdjoy.jnu@gmail.com : admin : Shah Zoy
  2. satvsunamgonj@gmail.com : Admin. :
বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন
  •                          

হাওরাঞ্চলের কথা ইপেপার

ব্রেকিং নিউজ
সহিংসতা করে কেউ পার পাবে না : ইসি আলমগীর তৃতীয় ধাপে দেশের ৮৭ উপজেলায় ভোটগ্রহণ কাল গাজায় মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে ডয়েচে ভেলেকে তথ্যচিত্র তৈরির আহ্বান তথ্য প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী-সন্তানসহ বেনজীরকে দুদকে তলব ক্রিকেট: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রস্তুতি ম্যাচ বাতিল আনোয়ারুল হত্যা : কলকাতার ওই ফ্ল্যাটের সেপটিক ট্যাংক থেকে মাংসের টুকরা উদ্ধার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুইজন সহকারী প্রভোষ্ট নিয়োগ রাজনীতিতে নারীর ক্ষমতায়নকে ত্বরান্বিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার কাজ করছে— এমপি রুমা চক্রবর্তী সিলেট নাসিং হোস্টেল যেন মিনি কারাগার! পাসপোর্ট অফিসে কোন ধরনের হয়রানী সহ্য করা হবে না— যুগ্ম সচিব নাসরিন জাহান

ছাতকের নোয়াকোট সীমান্তে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে প্রতি রাতে কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য প্রবেশ করছে

Reporter Name
  • আপডেট করা হয়েছে শনিবার, ৩০ মার্চ, ২০২৪
  • ৬৩ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের নোয়াকোট সীমান্ত দিয়ে স্থানীয় বিজিবি’র সহায়তায় প্রতি রাতেই ভারত থেকে বিনা শুল্কে দেশে প্রবেশ করছে কোটি টাকার ভারতীয় চিনি,পিয়াঁজ,কসমেটিক্স, ইয়াবা, গাজাঁ, নাসির বিড়ি, অস্ত্রসহ নানান অবৈধ পণ্য।

স্থানীয় সুত্র জানায়, ছাতকের উত্তর ইসলামপুর ও ছনবাড়ী এলাকার চোরাচালান নিয়ন্ত্রন করছে ৭ লাইনম্যান। তাদের মধ্যে ৩ জন বিজিবি’র ৪জন ছাতক থানা পুলিশের। বিজিবি’র নামে প্রতি বস্তা চিনি বা পেয়াজ থেকে ২শ টাকা, পুলিশের নামে ৫০টাকা হাতের চাঁদা আদায় করছে এই চক্রটি।

১২৪৫—১২৪৬ পিলারের মধ্য দিয়ে চলছে পাচার বানিজ্য।বিজিবি’র লাইনম্যান হিসেবে যাদের নাম বার বার উঠে আসছে তাদের মধ্যে রসুলপুর নিজগাও গ্রামের আপ্তাব আলীর পুত্র বাদশা মিয়া, বাগানবাড়ী গ্রামের তাহেরের পুত্র জালাল মিয়া, ছনবাড়ী গ্রামের মৃত আয়ুব আলীর পুত্র আব্দুল লতিফ বিরাই এবং থানা পুলিশের লাইনম্যান হিসেবে  বনগাও গ্রামের মৃত সিকন্দরের পুত্র শফিক, একই গ্রামের কাছা মিয়া, বাহার মিয়া ও আপ্তাব আলীর পুত্র সুমন মিয়া নিয়ন্ত্রন করে আসছে। এই লাইনম্যানরা সরকারী রাস্তা থেকে চাঁদা আদায় করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। শফিক ও কাছা মিয়ার নেতৃত্বে প্রতিটি অটোরিক্সা বা কুত্তা ট্রলি থেকে ১ থেকে ২ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রতিরাতে ৫০—৬০টি গাড়ী থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ টাকা। তাদের বিরুদ্ধে কেহ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। কেউ প্রতিবাদ করলেই বিজিবি কিংবা পুলিশ দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাসিয়ে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ এলাকাবাসীর। নোয়াকোট ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার কামরুল ইসলাম ও ভিআইপি’ আব্দুল করিমের যৌথ নির্দেশনায় রাতের আধারে তারকাটার বেড়ার উপর দিয়ে বাশের ক্রেন তৈরী করে সুকৌশলে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দেশে প্রবেশ করছে চোরাচালানী পণ্য। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একজন যুবক জানান, ভারত থেকে চোরাইপথে আসা প্রতি বস্তা চিনি থেকে বিজিবি’র নামে ১৫০ টাকা, ছাতক থানা পুলিশের নামে ৫০ টাকা করে আদায় করছে বিজিবি ও পুলিশের নির্ধারিত লাইনম্যানরা। প্রতি রাতে হাজার হাজার ভারতীয় চিনি ও পিয়াজের বস্তা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এসব বস্তার ভিতরে ইয়াবা, গাজাঁ, ফেনসিডিল ও অস্ত্র নিয়ে আসছে চোরাকারবারীরা।  স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, বিজিবি’র ক্যাম্প কমান্ডার কামরুল ও ভিআইপি আব্দুল করিমের তত্বাবধানেই ভারত থেকে দেশে বিনা বাধায় প্রবেশ করছে ভারতীয় পন্য। আর দেশ থেকে ভারতে পাচার হচ্ছে রসুন, মুরগী, চিসপ, মেলামাইন সামগ্রী।

নোয়াকোট ক্যাম্পের এলাকা ১২৪৪—১২৪৬ পিলারের মধ্য দিয়ে বিজিবি’র লাইনম্যান নিজগাও গ্রামের আপ্তাব আলীর পুত্র বাদশা মিয়া, নিজগাও রসুলপুর গ্রামের তাহের আলীর পুত্র জালাল ও রসুলপুর বাগানবাড়ী গ্রামের আয়ুব উল্লাহর পুত্র আব্দুল লতিফ বিরাই মিয়া এবং ছাতক থানার লাইনম্যান হিসেবে বনগাও গ্রামের বাহার মিয়া, সিকন্দর মিয়ার পুত্র শফিকুল, আপ্তাব মিয়ার পুত্র সুমন ও কাছা মিয়া। তাদের মাধ্যমে প্রতি রাতেই হাজার হাজার বস্তা চিনি, পিয়াজ ও কসমেটিক্স সামগ্রী বিনাশুল্কে দেশে প্রবেশ করছে। গত ২২ মার্চ রাতে ৪৭৯৬ বস্তা চিনি দেশে প্রবেশ করে লাইনম্যান বাদশা মিয়ার মাধ্যমে। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ যে, যারা বিজিবি ও পুলিশের লাইনম্যান হিসেবে কাজ করছে তারা মদ খেয়ে মাতাল অবস্থায় এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছে। যাকে খুশি তাকেই গালিগালাজ করতে থাকে। তাদের বিচার করার কেউ নাই। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ারও দাবী জানান।

এ ব্যাপারে লাইনম্যান বাদশা মিয়ার কাছে জানতে চাইলে অভিযোগ স্বীকার করে জানান, ভাই আমাদের এলাকার অনেক গরীব মানুষ বস্তা বহন করে সংসার নিয়ে সুখে আছে। এসব নিয়ে রিপোর্ট করার দরকার নাই।

নোয়াকোট বিওপি’র ভিআইপি নামে খ্যাত আব্দুর করিম জানান, নোয়াকোট ক্যাম্প এলাকায় কোন ধরনের চোরচালানী পন্য দেশে প্রবেশ করছে না। বিজিবি’র সদস্যরা সর্বক্ষন টহলে থাকে। তবে চোরাকারবারীরা সুযোগ বুঝে কিছু পণ্য আনতেও পারে। প্রায়ই চোরাচালানী পন্য আটক করা হচ্ছে।

নোয়াকোট বিওপি ক্যাম্পের কমান্ডার কামরুল ইসলাম এর বক্তব্য জানতে বার বার সরকারী নাম্বারে কল দিলে রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন