1. mdjoy.jnu@gmail.com : admin : Shah Zoy
  2. stvsunamgonj@gmail.com : Admin. :
শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৩৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
ধর্মপাশায় ছয় বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ সুরমা নদীতে সেতু নির্মানসহ বিভিন্ন দাবীতে মানববন্ধন ও লিফলেট বিতরণ চাকুরী করেন বাংলাদেশে ৫ বছর ধরে বসবাস করেন আমেরিকায় প্রধান শিক্ষিকা জেসমিন সুলতানা উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে মিলেমিশে থাকতে হবে : পরিকল্পনামন্ত্রী  শান্তিগঞ্জে পোনামাছ অবমুক্ত করলেন পরিকল্পনামন্ত্রী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় পরিকল্পনামন্ত্রী, জনগণই আমাদের সব  রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দদের সাথে অপরাজিতার মতবিনিময় তাহিরপুরে শহীদ সিরাজ লেকে পানিতে ডুবে পর্যটক নিহত  সুনামগঞ্জ সাংবাদিক ফোরামের গঠতনন্ত্র অনুমোদিত তাহিরপুরে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দৃষ্টিনন্দন পর্যটন কেন্দ্র নির্মান করা হবে- সচিব মোকাম্মেল

এক ঢিলে দুই পাখি পৈত্রিক সম্পত্তির ভাগ না দিতে ধর্ষনের মামলায় জেলে,বাদীনিকে বিতাড়িত

Reporter Name
  • আপডেট করা হয়েছে বুধবার, ৩ মার্চ, ২০২১
  • ১৮২ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি:

পৈত্রিক সম্পত্তির ভাগ না দিতেই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ছোটভাই তারা মিয়াকে মামলা দিয়ে জেল হাজতে পাঠায় বড় ভাই কালু মিয়া। এ ঘটনাটি ঘটে ২০১৯ সালের ১৮ আগষ্ট সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানার দক্ষিন বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের ধোপাঘাটপুর গ্রামে। মধ্যনগর থানার মামলার নং ৬/১৯ জিআর ৫৪/১৯(ধর্মপাশা), নারী ও শিশু ২৫৩/২০। দীর্ঘ ১ বছর ৩ মাস ১৩ দিন পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জাকির হোসেন এর আদালত গত ১লা ডিসেম্বর ২০২০ইং তারিখে জামিনে মুক্তি দেয়। জামিনে বেরিয়ে পৈত্রিক ভিটেবাড়ীতে ফিরতে ভয় পেয়ে সুনামগঞ্জ শহরে অতিকষ্ঠে দিনাতিপাত করছেন।

সরজমিন ঘুরে জানা যা, ধোপাঘাটপুর গ্রামের ধনাঢ্য ব্যক্তি ছিলেন তারা মিয়ার পিতা জয়নাল আবেদীন। পিতার মৃত্যুর পর ৪ ছেলে কালু মিয়া, লাল মিয়া, চান মিয়া (বর্তমানে মৃত), তারা মিয়া, বোন আয়শা আক্তার ও মাতা খোদেজা বেগমকে ওয়ারিশ হিসেবে রেখে যান। জমির খাজনা দাখিলা ও পর্চা দৃষ্টে দেখা যায়, মরহুম জয়নাল আবেদীনের নামে ৮.৬৪ শতক ভুমি রেকর্ডভুক্ত আছে। উক্ত ভুমির মধ্যে বড় ভাই কালু মিয়া প্রায় ২০ জনের কাছে কোন দলিল ছাড়াই দখল বিক্রি করে এলাকা ছেড়ে গাজীপুর জেলার মাওনা চৌরাস্তার শ্রীপুর রোডের বয়রা এলাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। আর আরেক ভাই লাল মিয়া পিতার রেখে যাওয়া অবশিষ্ঠ সম্পত্তিতে ভোগাধিকার আছেন। কালু মিয়া যাদেরকে দখল সমজিয়ে দিয়েছেন তাদের মধ্যে তারা মিয়ার ধর্ষণ মামলার প্রধান সাক্ষী ও কালু মিয়ার শ্বশুর হোসেন আলী। সাক্ষী হয়েছেন বড়ভাই’ লাল মিয়া ও তার স্ত্রী রহিমা খাতুনও। মামলায় ভিকটিম ও বাদীনি করা হয়েছে মৃত চান মিয়ার স্ত্রী হুরেনা বেগমকে। মামলা দিয়ে তারা মিয়াকে জেল হাজতে প্রেরনের কিছুদিন পরই মামলার বাদীনি হুরেনা বেগম ও মৃত ভাই চান মিয়ার স্ত্রী শিশু সন্তানকে বাড়ী থেকে গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া হয়। বর্তমানে হুরেনা খাতুন পিত্রালয় মহিষখোলা গ্রামে বড় ভাইয়ের বাড়ীতে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। নিজের স্বামীর সম্পত্তি থাকা সত্বেও ছোট শিশু ও নিজের জীবন রক্ষার্থে অন্যের বাড়ীতে ঝিয়ের কাজ করছেন।

হুরেনা খাতুনের বড় ভাই মুজিবুর রহমান জানান, তারা মিয়া সম্পুর্ণ নির্দোষ। তাকে সম্পত্তি থেকে ভাগ না দিতেই তারা মিয়ার বড় ভাই কালু মিয়া ও লাল মিয়া ষড়যন্ত্র করে আমার ছোটবোনকে দিয়ে মিথ্যা মামলা করিয়েছেন। আমার বোন একবার চেয়েছিল নিরপরাধ তারা মিয়াকে জেল থেকে ছাড়িয়ে আনবে কিন্তু তারা মিয়ার বড় ভাইদের হুমকির কারণে সুনামগঞ্জ যেতে ভয় পায়। ধোপাঘাটপুর গ্রামের মাতব্বর মুক্তর আলী জানান, তারা মিয়ার দীর্ঘ বছর পর বাড়ীতে এসেছিল এবং তার পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তির হিসাব চেয়ে এলাকায় বিচার পঞ্চায়েতও করেছিল। তারা সম্পুর্ণ নিদোর্ষ। তাকে ষড়যন্ত্রমুলকভাবে ফাঁসানো হয়েছে। মৃত ভাইয়ের স্ত্রী হুরেনা বেগমকে ধর্ষনের কোন ঘটনা ঘটলে আমরা কিংবা আমাদের গ্রামের মেম্বারও জানতো।

এ ব্যাপারে কোন ধরনের বিচার শালিশও করা হয়নি। হঠাৎ পুলিশ এসে তারা মিয়াকে ধরে নিয়ে যায়। তারা মিয়াকে জেলে যাওয়ার কিছুদিন পর তার বৃদ্ধ মাকেও বাড়ী থেকে পিঠিয়ে বের করে দেয় কালু মিয়া ও লাল মিয়া। বড়কান্দা গ্রামের শাহজাহান জানান, ১৫/২০ দিন পর মামলার বাদীনি হুরেনা খাতুন এসে কান্না কাটি করে বলেছে, তারা মিয়া সম্পূর্ন নির্দোষ। আমাকে ঢর ভয় দেখাইয়া বলছে তাতে আমি বলতে বাধ্য হয়েছি। লাল মিয়ার বউ রহিমা, ফজল মেম্বার, হোসেন আলী ও কালু মিয়া ভয় দেখাইছে। তাদের ভয়েই আমি দস্তখত করেছি। আমাকে সুনামগঞ্জে নিয়ে যান আমি তারা মিয়াকে বের করে আনব। বড় ভাই লাল মিয়ার স্ত্রী রহিমা খাতুন জানান, মামলা করেছে হুরেনা। ঘটনা সত্য কি মিথ্যা আমরা জানি না। তারা মিয়া আমার স্বামীকে বাশ দিয়ে পিঠিয়েছিল তাই তাকে জামিনে বের করতে যাইনি।

বর্তমানে মামলার বাদীনি কোথায় আছে জানতে চাইলে তিনি জানান, বাদিনী কোথায় আছে আমরা জানি না। তারা মিয়া ও মৃত চান মিয়ার সম্পত্তির অংশ না দিতেই এক ঢিলে দুই পাখি শিকার করেছেন প্রশ্ন করা হলে তিনি ক্ষেপে গিয়ে বলেন, আমরা যা করেছি সঠিক করেছি। পারলে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তারা মিয়ার বোন জামাই রতন মিয়া জানান, আমার শালা তারা মিয়াকে সম্পত্তির ভাগ থেকে বঞ্চিত করতে আমার সমন্ধিক কালু মিয়া ও লাল মিয়া ষড়যন্ত্র করে ধর্ষন মামলা ফাসিয়ে জেলে দিয়েছিল। তারা মিয়া ও আমার স্ত্রী আয়শা খাতুনের সম্পত্তির অংশ দাবী করায় কালু মিয়ার পরামর্শে লাল মিয়া, লাল মিয়ার স্ত্রী রহিমা খাতুন, কালু মিয়ার শ্বশুর হোসেন আলী ও গ্রামের মাতব্বর ফজল মেম্বারকে দিয়ে ষড়যন্ত্রমুলক মামলায় তারা মিয়াকে জেলে দেয় এবং আমার শাশুড়ীকে বাড়ী থেকে অত্যাচার করে তাড়িয়ে দেয়। আমাকে দেশ ছেড়ে অন্য স্থানে থাকতে বাধ্য করে। বর্তমানে আমার শ্বশুড়ের জায়গা জমির অংশ পাওয়ার জন্য দক্ষিন বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের কাছে তারা মিয়াসহ আমরা অভিযোগ করেছি। কালু মিয়া আমাকে প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছে এবং আমার শাশুড়ীকে হত্যা করে আমাকে ও তারা মিয়াকে ফাঁসাবে বলেও হুমকি দিয়ে আসছে। আমি ভয়ে বর্তমানে সুনামগঞ্জ শহরে রিক্সা চালিয়ে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছি। মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত তারা মিয়া জানান, আমি আমার ভাবী হুরেনা খাতুনের সাথে কোন ধরনের যৌন সর্ম্পক করেনি। ঘটনার সময় আমি ঢাকায় একটি চায়ের দোকানে চাকুরী করতাম। আমাকে পুলিশ আটক করার ১৫দিন আগে বাড়ীতে এসে আমার পিতা ও মাতার নামের জমিগুলোর হিসাব চেয়ে এলাকায় পঞ্চায়েত করার কারণেই আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠায় বড় ভাই কালু মিয়া ও লাল মিয়া। আমি আদালতের কাছে ন্যায় বিচার চাই। বর্তমানে আমি জীবনের ভয়ে বাড়ীতে যেতে পারছি না। মোবাইল ফোনে কালু মিয়া ও তার ছেলে জামাল মিয়া হুমকি দিচ্ছে যে, আমাকে আবারও মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠাবে। নতুবা আমার মাকে হত্যা করে খুনের আসামী করবে। মোবাইল ফোনে কালু মিয়ার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কাহারো জায়গা জমি বিক্রি করি নাই। তারা মিয়াকে আমি জেলে পাঠাইনি। হুমকি দেয়ার বিষয়ও অস্বীকার করেন। এ ব্যাপারে দক্ষিন বংশীকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদ জানান, তারা মিয়ার পিতার অনেক জায়গা ছিল। বর্তমানেও আছে। তারা মিয়া তার পিতার সম্পত্তির কোন অংশ বিক্রি করে নাই বলে এলাকার মানুষ আমাকে জানিয়েছেন। আমার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। বিষয়টি নিয়ে শালিস করতে বার বার কালু মিয়াকে ফোন করিলে কালু মিয়া সময় নাই বলে আসতে অপারগতা প্রকাশ করেন। ধর্ষন মামলার বাদিনী হুরেনা খাতুনের বক্তব্য জানতে তার বড় ভাই মুজিবুর রহমানের বাড়ীতে গেলে, পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে ভয়ে প্রতিবেদকের সামনে উপস্থিত হয়নি এবং বক্তব্যও দিতে রাজি হয়নি। তারা মিয়ার বৃদ্ধ মা খোদেজা খাতুন জানান, আমার ছেলে তারা মিয়া সম্পুর্ণ নিদোর্ষ। আমার বড় ছেলে কালু মিয়া ও লাল মিয়া ষড়যন্ত্র করে স্থানীয় প্রভাবশালী ফজল মেম্বার, হোসেন আলীর যুক্তিতে মধ্যনগর থানা পুলিশকে মোটা অংকের অর্থ দিয়ে আমার মৃত ছেলে চান মিয়ার স্ত্রী হুরেনা বেগমকে দিয়ে মিথ্যা ধর্ষণের মামলা দিয়েছে। আমার বড় ছেলে কালু মিয়া আমার নামে ১৮ কাটা জায়গার কাগজও নিয়ে গেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন