1. mdjoy.jnu@gmail.com : admin : Shah Zoy
  2. stvsunamgonj@gmail.com : Admin. :
বুধবার, ২৯ জুন ২০২২, ০৬:৫২ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
বন্যার্থদের পাশে সিলেট বিল্ডাস ও শামীমাবাদ যুব সমাজ দি ডেইলী বাংলাদেশ টুডে পরিবারের অর্থায়নে ছাতকে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ফতেপুরে বন্যার্তদের মাঝে বিশ্বাস বিল্ডার্স লিমিটেডের খাবার ও কাপড় বিতরণ বন্যায় কবলিত মানুষের পাশে কর্ম সেবা সংস্থা কোস্ট গার্ডের সহায়তায় নতুন জীবন পেল আলীপুরের গৃহবধু হোসনে আরা সুনামগঞ্জে বন্যার্তদের মাঝে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এর ত্রাণ বিতরণ সুনামগঞ্জে ত্রাণ বিতরণ করছেন ঢাকা দক্ষিনের আ’লীগ নেতা শেখ মো: আজাহার বন্যায় মোকাবেলায় জনপ্রতিনিধি গ্রামবাসী, প্রশাসন ও পুলিশ একসাথে কাজ করতে হবে- বেনজির আহমদ ভয়াবহ বন্যায় র‌্যাব মানুষের পাশে ছিল পাশে থাকবে- ডিজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বন্যার্ত মানুষের জন্য যা করনীয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাই করছে- লে.জে.সফিউদ্দিন আহমদ

আব্দুর রশিদ হত্যার ঘটনায় চেয়ারম্যানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

Reporter Name
  • আপডেট করা হয়েছে মঙ্গলবার, ১ জুন, ২০২১
  • ২৩৮৬ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার:

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরের দক্ষিন বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদে আব্দুর রশিদ হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করায় চেয়ারম্যানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছে নিহত আব্দুর রশিদের স্ত্রী খুশিদা খাতুন। মঙ্গলবার সকালে সুনামগঞ্জ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত সদর জোনে দায়ের করা হয়।

মামলা ও স্থানীয় সুত্র জানায়, তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট (উত্তর) ইউনিয়নের মুখশেদপুর গ্রামের আব্দুল বারিকের পুত্র আব্দুর রশিদকে ২৭ মে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদের দক্ষিন বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নাম পরিচয় জানিয়ে ইউনিয়ন উদ্যোক্তা বদরুল ইসলাম দুই মিনিটের একটি ভিডিও জবানবন্দি রের্কড করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, নিহত আব্দুর রশিদ নিজের নাম পরিচয়সহ তাকে মিথ্যা গরু চুরির অপবাদ দিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান এরশাদ মিয়ার ছোট ভাই ও চাচাত ভাইরা মিলে তাকে মারপিট করেছে বলে জানা যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, নিহত আব্দুর রশিদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও তাকে গরু চোর অপবাদ দিয়ে আটকে রেখে শারীরিক ও মানিসক নির্যাতন করেছে বলে জানিয়েছেন। তার হাতে, বাহুতে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখমের চিহ্ন দেখিয়েছে। পরবর্তীতে রাতের যে কোন সময় ইউপি চেয়ারম্যান এরশাদ মিয়ার ছোট ভাই জুয়েল, জালু মিয়া ও জীবু মিয়াসহ অন্যান্য আসামীরা মারপিট করে ফেলে যায়। রাত অনুমান ১২টায় ইউনিয়ন পরিষদের চৌখিদার সুলতান বাদশা ও শিপন মিয়া আব্দুর রশিদের মৃত্যু নিশ্চিত করে চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন। কিন্তু চেয়ারম্যান এরশাদ মিয়া নিজের ভাই ও স্বজনদের বাচাঁতে হত্যার ঘটনাকে ধাপাচাপা দেয়ার উদ্দেশ্যে বিশ্বম্ভরপুর থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে বেওয়ারিশ লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য প্রেরণ করেন। পরদিন ২৮ মে বিশ্বম্ভরপুর থানা পুলিশ নিহত আব্দুর রশিদের লাশ স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কাছে বেওয়ারিশ হিসেবে হস্তান্তর করেন এবং ঐ সংস্থাটি আব্দুর রশিদের লাশ ইসলামী বিধান অনুযায়ী দাফন সম্পন্ন করেন। পরদিন নিহতের স্বজনরা ফেইসবুকে একটি পোষ্টের মাধ্যমে জানতে পারেন আব্দুল রশিদ মারা গেছেন এবং তাকে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে। অথচ ইউপি চেয়ারম্যান এরশাদ মিয়া সকল কিছু জেনেও তথ্য গোপন করে হত্যার ঘটনাটি ভিন্নখাতে নেয়ার পায়তারার অংশ হিসেবেমফ এ ধরনের কাজ করেছেন বলে নিহতের স্বজনদের অভিযোগ।

এ ঘটনায় ৯জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আসামীদের মধ্যে ইউপি চেয়ারম্যান এরশাদকে ৯নং আসামী করা হয়েছে। অন্যান্য আসামীদের মধ্যে বাকগাও গ্রামের রইছ মিয়ার পুত্র জালু মিয়া, জীবু মিয়া, ইউপি চেয়ারম্যান এরশাদের ভাই জুয়েল মিয়া, নুরুল হকের পুত্র নবী মিয়া, চান মিয়ার পুত্র হবি মিয়া, ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা বদরুল ইসলাম, পরিষদের চোখিদার সুলতান বাদশা, শিপন মিয়াকে আসামী করা হয়েছে।

মামলার বাদীনি ও নিহত আব্দুর রশিদের স্ত্রী মুর্শিদা খাতুন জানান, আমার ৩টি মেয়ে ও ২টি ছেলে নিয়ে কিভাবে বাঁচব? আমার স্বামী সহজ সরল ছিল। আমার স্বামী বাড়ী থেকে বেরিয়েছিল আমাদের জন্য আয় রোজগার করতে। যারা আমার স্বামীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি চাই। আমি আদালতসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে ন্যায় বিচার চাই।

বাদী পক্ষে এডভোকেট মোশাহিদ আলী জানান, একজন নিরীহ মানুষকে গরু চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে পিঠিয়ে হত্যার পর বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে দেখিয়ে দ্রুতগতিতে দাফন করে হত্যার দায় থেকে বাচাঁর পায়তারা করেছে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। বাদী ন্যায় বিচারের আশায় আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আদালতের বিচারক ক্ষুদ্রত-ই-এলাহী বিশ্বম্ভরপুর থানাকে এ ব্যাপারে নিয়মিত মামলা হয়েছে কিনা প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে দক্ষিন বাদাঘাট ইউপি চেয়ারম্যান এরশাদ মিয়া জানান, মামলা দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত করে ঘটনার সাথে যাদের সম্পৃক্তা পাবে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নিবেন। কেউ মামলা দিলে আমার কি করার আছে? আমি এ ঘটনার সাথে কোনভাবেই জড়িত না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন